আজই সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন জয়ে সিরিজ নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি দুই ম্যাচে তাই সিরিজ হারের ভয় ধরেনি বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে কিন্তু ওইরকম সাবলীল জয় আসেনি। টানা দুই ম্যাচে জয়ের মতোই খেলেছে কিউইরা। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হলেও তৃতীয়টিকে ঠিকই জয় তুলে নিয়েছে দলটি। এ জয়ে মানসিকতা শক্ত হয়ে উঠেছে নিউজিল্যান্ডের। আগুনের জবাবে আগুন দিয়েই হানতে চাইছেন কিউই কোচ গ্লেন পকনাল। হিসাবটা তাই এখন পাল্টে গেছে। প্রথম দু’ম্যাচের পর অনায়াসে বলা যাচ্ছে না বাংলাদেশ জিতবে। স্বাগতিক শিবির যদিও তা মানছে না। উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিলেই জয় আসবে বলে মনে করেন ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স। সেই চেষ্টায় আজই সফল হতে চান তারা। নিশ্চিত করতে চান পাঁচ ম্যাচের বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সবশেষ ১০ ম্যাচে মাত্র দুটি জয় নিউজিল্যান্ডের। এই পরিসংখ্যান কখনই দুশ্চিন্তার কিছু নয়। তবুও রবিবারে কিউইদের ৫২ রানের জয় বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্নে ধাক্কা দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ৬০ রানে অলআউট হওয়া দলটির এমন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া বের করতে পেরে তাই খুশি পকনাল বলেন, ‘আমরা জুটি গড়ার দিকে নজর রেখেছি। গত ম্যাচে ৫ উইকেট হারানোর পর পরের ১০ ওভারে (৯ ওভার) আমরা এক দিনের ম্যাচের মাঝের ওভারগুলোর মতো ব্যাট করেছি। ওভারে ৪-৫ রান করে শুধু স্ট্রাইক রোটেট করেছি। আমরা চেষ্টা করেছি গুছিয়ে খেলতে। জানতাম এরপর যেকোনো কিছু হতে পারে।’

এই গুছিয়ে খেলাটাই খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে হেড কোচ ডমিঙ্গোর মতো ব্যাটিং কোচও মনে করিয়ে দেন ২ ওভারে ২০ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর পথ হারাল কেন? নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যান নিকোলস-ব্লান্ডেল বিরুদ্ধ কন্ডিশনেও ৬৬ রানের জুটি গড়েন; অথচ বাংলাদেশ ৫৩ রান তুলতেই ১০ উইকেট হারায়। প্রিন্স বিশ্বাস করেন একটি ম্যাচে তারা হোঁচট খেয়েছেন। পরের ম্যাচে অবশ্যই রান তাড়ার পরিস্থিতিতে সফল হবেন। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন উইকেটে আফিফ-সোহানের ম্যাচজয়ী জুটির কথা মনে করিয়ে দেন সাবেক প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান প্রিন্স, ‘জিম্বাবুয়ে থেকেই আমরা কিন্তু ভালো কিছু রান তাড়ার উদাহরণ দিয়েছি। আমাদের দলে রান তাড়া করতে পারে এমন ব্যাটসম্যান আছে। ওরা স্ট্রাইক রোটেট করতে পারে আবার বাউন্ডারিও মারতে পারে। আমাদের শুধু পরিস্থিতি অনুযায়ী পিচ পড়তে হবে, যাতে গত ম্যাচে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। অবশ্যই সামনের ম্যাচগুলোয় পরিস্থিতি একই হবে না।’

বাজেভাবে হারের পরদিন বিশ্রামে ছিল বাংলাদেশ। গতকাল জোর অনুশীলন হয়েছে। কিন্তু তাতে অভিজ্ঞরা ছিলেন না পুরোদমে। সাকিব আল হাসান অনুশীলনে এসে ব্যাট-বল হাতে নামেননি। গত ম্যাচে লাসিথ মালিঙ্গার সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার ফাস্ট বোলারকে ছুঁতে আর একটি উইকেট চাই তার। ২ উইকেট পেলে গড়বেন নতুন রেকর্ড। সেই সঙ্গে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ হাজার রান ও ৬০০ উইকেটের অনন্য অর্জনও গড়বেন সাকিব। কালকের অনুশীলনে তার মতো বাড়তি বিশ্রামে না থাকলেও মুশফিকুর ও মাহমুদউল্লাহ খুব বেশি সময় ব্যাটিং করেননি। তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে সৌম্য সরকার ও শামীম হোসেনকে। দুজনই ব্যাটিং কোচ প্রিন্সের নজরে থেকে লম্বা সময় ব্যাট করেছেন নেটে। ওদিকে তাসকিন ও মোস্তাফিজ সেন্টার উইকেটে বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গে কাজ করেছেন।

অভিজ্ঞরা হালকা অনুশীলন করলেও সবশেষ ম্যাচকে হালকাভাবে নিচ্ছে না বাংলাদেশ। উল্টো বাড়তি বিশ্রামে শরীর চাঙ্গা করে নতুন শুরুর চেষ্টা হতে পারে।