তালেবান শিক্ষামন্ত্রী বললেন

পিএইচডি মাস্টার্স ডিগ্রি মূল্যহীন

কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে গত মঙ্গলবার আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। একই দিন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়েছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। এতে তিনি বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের শাসন ও জীবনের সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হবে শরিয়াহ আইনের মাধ্যমে।’ তালেবান কট্টরপন্থা থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বৈশ্বিক স্বীকৃতি চাইছে। তবে তাদের এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তালেবানের নতুন শিক্ষামন্ত্রী শেখ মৌলভি নুরুল্লাহ মনিরকে উচ্চশিক্ষার যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেখা গেছে।

ওই ভিডিওতে মৌলভি নুরুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, ‘আজকের দিনে পিএইচডি ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রির কোনো মূল্য নেই। দেখুন, আজকে ক্ষমতায় থাকা মোল্লা এবং তালেবানের কারোরই পিএইচডি, এমএ এমনকি হাইস্কুল ডিগ্রিও নেই, কিন্তু তারাই সবার চেয়ে বড়।’ তার এ মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এই লোক কেন শিক্ষা নিয়ে কথা বলছে।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘উচ্চশিক্ষা তদারককারী মন্ত্রী বলছেন উচ্চশিক্ষার কোনো মূল্য নেই।’

তালেবান বলেছিল, তারা আফগানিস্তানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গড়বে। কিন্তু গতকাল তালেবান যে সরকারের ঘোষণা দিয়েছে, তা মোটেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। তালেবান সরকারের মন্ত্রিসভায় কোনো নারীকে রাখা হয়নি।

এদিকে আফগানিস্তানের সদ্য ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘শরিয়াহ আইন’ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান তালেবানের দখলে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাকে।