কাঁচাবাজারের দখলে সেতু

পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত বরগুনার মাছবাজারসংলগ্ন লাকুরতলা সেতুটি এখন কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী ও হকারদের দখলে। ব্রিজের দুই পাশে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বসছে কাঁচাবাজার। আর বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভ্যানগাড়িতে চটপটি, জুতা, ফল এবং কাপড়ের ভ্রাম্যমাণ বাজার বসছে নিয়মিত। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহন চালকদের। যানবাহন চলাচল একপ্রকার বন্ধই হয়ে গেছে এই সেতুতে। স্থানীয়রা সেতুটি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি যানবাহন চলাচল উপযোগী করতে সেতুর দুই প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা পৌর শহরের সঙ্গে বেতাগী উপজেলা, সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়ন ও বদরখালী ইউনিয়নের লাকুরতলা, ফুলতলাসহ ২০টি গ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম এই সেতুটি প্রায় চার বছর আগে নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সঠিকভাবে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না করায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি রয়ে গেছে সেই শুরু থেকেই। গত দুই বছর ধরে ব্রিজের ওপর নিয়মিত বসছে কাঁচাবাজার। ফলে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজের পুরো অংশজুড়ে দুই পাশে বসেছে বিভিন্ন সবজির দোকান। সবজি কিনতে এসে ভিড় করছেন ক্রেতারা। যানবাহন ও পথচারী চলাচলের জায়গা নেই বললেই চলে। ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তের সংযোগস্থলে মূল ব্রিজ থেকে অ্যাপ্রোচ সড়ক রয়েছে প্রায় ৩-৪ ফুট নিচে। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।

পথচারী আরিফ মোল্লা বলেন, ‘শহরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই আমরা ভোগান্তি পোহাচ্ছি। এখন আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঁচাবাজার। অতি দ্রুত ব্রিজের উপর থেকে বাজার অপসারণ করার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আল-আমিন খন্দকার বলেন, ‘বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিং করেছি। ব্রিজের ওপর থেকে সকল ব্যবসায়ীকে বাজার সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

বরগুনা পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, ব্রিজের ওপর থেকে বাজার সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতিকে বলা হয়েছে। তবে ব্রিজের অ্যপ্রোচ সড়কটি ঠিক থাকলে এভাবে কাঁচাবাজার বসতে পারত না বলে জানান তিনি।’

এলজিইডি বরগুনা সদর উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘আশা করছি আগামী এক/দুই মাসের মধ্যে ব্রিজটির অ্যাপ্রোচের কাজ শুরু হবে।’