বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুব সংকটাপন্ন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা বর্ষীয়ান আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের অবস্থা সংকটাপন্ন। গত বুধবার লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে হাত-পা নাড়িয়েছেন তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে রাতে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদ।

ডা. হারুন বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত খন্দকার মাহবুব হোসেনকে গত ১৬ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ দিন ধরে করোনায় আক্রান্ত মাহবুবের ফুসফুসে ইনফেকশন রয়েছে। কোনো ধরনের ওষুধে কাজ হচ্ছে না। গত বুধবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।’

সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহবুব হোসেনের জুনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসকরা বলেছেন খন্দকার মাহবুব হোসেনের কিডনি, ব্রেনসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট ফারহা মাহবুব হাসপাতালে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার তিন সন্তান দেশে এসেছেন।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ১৯৩৮ সালের ২০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালের ৩১ জানুয়ারি আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর একই বছরের ২০ অক্টোবর তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৭৩ সালে দালাল আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ আইনজীবী।

চারবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং দুবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। ৫৪ বছরের আইন পেশায় দেশের প্রথম সারির সব রাজনীতিবিদের মামলা পরিচালনা করেছেন এ আইনজীবী। বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।