এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পরলোক গমন করেন কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। ১৯৪১ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জন্মদিনে এই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তার ভক্তরা।
অভিনেতা হিসেবে খ্যাতি পেলেও চলচ্চিত্রের এটিএম শামসুজ্জামানের আবির্ভাব অন্য পরিচয়ে। সহকারী পরিচালক তার যাত্রা। চিত্রনাট্য লেখক হিসেবে সুনাম অর্জন শেষে অভিনয়ে থিতু হন, চলচ্চিত্র নির্মাণও করেন তিনি।
অভিনয়ে সাফল্য লাভ করলেও এটিএম শামসুজ্জামান মনে করেন কপাল গুণে অভিনেতা হয়ে গেছেন, তিনি হতে চেয়েছিলেন সাহিত্যিক। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সত্যেন সেন, রনেশ দাসগুপ্ত, উদয়ন চৌধুরী, খালেদ চৌধুরী প্রমুখ ব্যক্তির সংস্পর্শ এবং অনুপ্রেরণা তাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। লেখালেখির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি তার স্কুল জীবনের কথা উল্লেখ করেন।
স্কুল ম্যাগাজিনে লেখার উদ্দেশ্যে তিনি ‘অবহেলা’ শিরোনামে একটি ছোটগল্প লিখেন যা কবি ফেরদৌসীর একটি ঘটনা দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল। গল্পটি তিনি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে দেখান। ড. শহীদুল্লাহ তার আত্মীয় ছিলেন। রনেশ দাশগুপ্ত তাকে বিভিন্ন সময়ে লেখার ব্যাপারে পরামর্শদাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন বলেও জানান সাক্ষাৎকারে।
১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে এটিএম শামসুজ্জামানের জন্ম। ১৯৬১ সালে উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান এটিএম শামসুজ্জামান। ১৯৬৫ সালে সর্বপ্রথম চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য লিখেন। ছবির নাম ‘জলছবি’ এবং এর পরিচালক ছিলেন এইচ আকবর। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুক যাত্রা শুরু করেন।
এটিএম শামসুজ্জামান বিভিন্ন পরিচালকের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। যাদের মধ্যে খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্ত অন্যতম। ১৯৬৫ সাল থেকে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। প্রথম অভিনীত ছবি ‘ন্যায়ী জিন্দেগি’ যা শেষ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়নি। এ সময় তিনি ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করতেন।
১৯৭৪ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘নয়নমনি’তে অভিনয়ের সুযোগ পান। মন্দ লোকের চরিত্রে অভিনয় করে এটিএম শামসুজ্জামান তার অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছে যান, ছবিটিও দর্শকপ্রিয়তা পায়। ফলে পরিচালকরাও তাকে একের পর এক খলনায়ক চরিত্রে কাস্ট করতে লাগলেন। একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছেন এমন আশঙ্কা থেকে অভিনয়ে বৈচিত্র্য নিয়ে আসার চেষ্টা করেন এটিএম শামসুজ্জামান। মন্দ লোকের পাশাপাশি কৌতুক অভিনেতা হিসেবেও অভিনয় করতে শুরু করেন এবং এখানেও সফল হন। চলচ্চিত্র থেকে সরে এসে টেলিভিশনেও পান দারুণ জনপ্রিয়তা।
তার পরিচালিত একমাত্র ছবি ‘এবাদত’ ২০০৬ সালে মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি মোটামুটি দর্শকপ্রিয়তা লাভ করলেও এটিএম শামসুজ্জামান আর কোন চলচ্চিত্র পরিচালনার কাজে হাত দেননি। কারণ হিসেবে তিনি রুচিশীল প্রযোজকের অভাবকে দায়ী করেন।
শতাধিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার এবং তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান শ্রেষ্ঠ অভিনয়টি করতে পারেননি বলে মনে করতেন। নিজের শেষ সময়েও চেয়েছেন কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে অবদান রাখার। কিন্তু এগিয়ে আসেননি কেউ।
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, কৌতুক অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা ও আজীবন সম্মাননা মিলিয়ে ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান এটিএম শামসুজ্জামান। পেয়েছেন একুশে পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা।