অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামান্য কারণে বাচ্চাদের বমি হয় এবং তা আপনা থেকে সেরে যায়। অনেক সময় শিশুদের বমি জটিল কোনো রোগের লক্ষণরূপেও দেখা দেয়। বমি ছাড়াও হতে পারে মারাত্মক মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, ফ্যাকাশে চামড়া, ক্লান্তি বোধ হওয়া, ক্ষুধা কম হওয়া, পানিশূন্যতা, লালা বের হওয়া বা বমি হওয়া, খিটখিটেভাব, ডায়রিয়া, হালকা জ্বর, মাথাঘোরা এবং ঘুম কম হওয়া, পেটে ব্যথা, ঘন ঘন রিচিং (জোর করে বমির চেষ্টা করা)। বমি শুরু হওয়ার পরে, শিশুটি কতবার বমি করেছিল এবং বমি হওয়ার আগে কী খাবার গ্রহণ করেছে সেটা খেয়াল করতে হবে।
কারণ নির্ণয়
বাচ্চার হজম সিস্টেমে কোনো বাধা বা সমস্যা দেখা দিয়েছে কিনা নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে করতে হবে। টিউমার বা অ্যাপেনডিসাইটিসের উপস্থিতি পরীক্ষা করার জন্য আলট্রাসনোগ্রামও করা হয়। রক্ত পরীক্ষা করারও প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা ও করণীয়
মাঝেমধ্যে শিশু দু-একবার বমি করলে তা নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। বমি করার পর শিশু যদি স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করে, উৎফুল্ল থাকে, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা হিসেবে বুকের দুধ পান চালিয়ে যাওয়া, তরল খাবার ও পানীয় পান করা, প্রতি ঘণ্টায় কয়েকবার খাবার স্যালাইন পান করানো উচিত।
বমির কারণে দেহ থেকে পানি ও অন্যান্য জলীয় পদার্থ বেরিয়ে যায়। এসব পূরণের লক্ষ্যে বমি হলে শিশুকে খাবার স্যালাইন অল্প অল্প করে খেতে দিতে হবে। শিশু যদি নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
খেয়াল করুন, দুধ খাওয়া ভুলের কারণে শিশু বেশি বাতাস গিলছে কি না। শিশুকে প্রতিবার খাওয়ার আগে ও খাওয়ানোর পরে কাঁধে রেখে ৫-১০ মিনিটের জন্য পিঠে মৃদু চাপড় দিলে এই বাতাস বেরিয়ে আসে, শিশু স্বস্তি ফিরে পায় এবং বমি করা বন্ধ হয়ে যায়।
শিশুকে জোর করে খাবার খাওয়াবেন না। আবার হঠাৎ করে শিশুর খাবার পরিবর্তন করেও দেবেন না। শিশুর খাদ্যসূচিতে পরিবর্তন আনতে হলে অথবা তাকে কোনো নতুন খাবার দিতে চাইলে তা খুব ধীরে ধীরে এবং অল্প অল্প করে শুরু করুন। কোনো খাবার খাওয়ানোর পর সঙ্গে সঙ্গে বমি করে দিলে দ্বিতীয়বার ওই খাবার দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
খাবারে অ্যালার্জির কারণে বমি হতে পারে। শিশুকে প্রথম ডিম খাওয়ানোর সময় একটু সাবধানতা অবলম্বন করুন। অনেক শিশুর মুখে ডিম দিলেই বমি করে ফেলে ও চামড়ায় লাল রঙের দাগ দেখা যায়। প্রতিবার ডিম দেওয়ার পরপরই যদি এরূপ ঘটে, তাহলে বুঝতে হবে ডিমে তার অ্যালার্জি আছে এবং এসব ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন।
জেনে রাখুন
কখনো বমির আড়ালে মারাত্মক অসুখ লুকিয়ে থাকে। বিশেষত বমির সঙ্গে যদি জ্বর, চরম পানি স্বল্পতা, বুকের দুধ পান না করে বা পানি পানে অপারগতা, ত্বকে র্যাশ দেখা, ঘুম ভাব বা বেশি খিটখিটে, মাথার চাঁদি ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, পেট ফোলা, খিঁচুনি, বমিতে রক্ত বা পিত্তরস, খাওয়ার আধঘণ্টার মধ্যে বেশ জোরের সঙ্গে বমি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে সতর্ক হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।