নারী অধিকার নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের নতুন তালেবান সরকার। এরই মধ্যে নারীদের নিয়ে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তালেবানের এক মুখপাত্র। টোলো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইদ জিকরুল্লাহ হাসিমি বলেছেন, নারীরা মন্ত্রী হতে পারে না, তাদের উচিত সন্তান জন্ম দেওয়া। গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বারবার তালেবানের তরফ থেকে শরিয়া আইন অনুযায়ী নারী অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে ঘোষিত নতুন মন্ত্রিসভায় কোনো নারী প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি।
তালেবানের অপর এক কর্মকর্তা আফগানিস্তানের নারীদের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে হিজাব না পরা নারীরা কাটা তরমুজের মতো বলে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তালেবানের ওই সদস্যের এ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং অনেকেই নিন্দা জানাচ্ছেন। তালেবানের ওই সদস্য বলেন, ‘আপনারা কি কেউ কাটা তরমুজ কেনেন? নাকি আস্ত তরমুজ কেনেন? অবশ্যই গোটাটাই কেনেন। হিজাব না পরা নারীরা হলো ‘কাটা তরমুজ’।’
আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর ‘চড়াও’ হতে শুরু করেছে তালেবান। নারী অধিকার সুসংহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশটিতে নারীদের ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলা নিষিদ্ধ করছে সংগঠনটি। তালেবানের এই পদক্ষেপে উদ্বেগ জানিয়ে জাতিসংঘ বলেছে, সংগঠনটি নারীদের অধিকার সংরক্ষণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা থেকে ক্রমেই সরে যাচ্ছে।
এদিকে তালেবানের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গতকাল শুক্রবারও রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা। কাবুলের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশকিছু নারীকে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তালেবান সদস্যদের বিরুদ্ধে। তবে গত কয়েক দিন নারীরা কাবুলের কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ করেছিল। গতকাল বিক্ষোভকারী নারীরা শহরের উপকেন্দ্রের বেশ কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ করে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
কাবুল দখলের তিন সপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় থাকা মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে প্রধান করে আফগানিস্তানের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা দেয় তালেবান। এই সরকারে তালেবানের কট্টরপন্থি নেতা ও সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা স্থান পেলেও সংগঠনটির বাইরে কোনো জাতিগোষ্ঠী বা নারী সেখানে নেই। এই সরকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠনের এক দিন পর বুধবার অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে একটি সাক্ষাৎকার দেন তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আহমাদুল্লাহ ওয়াসিক। সাক্ষাৎকারে তিনি নারীদের খেলাধুলার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখেন না বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে নারীরা ক্রিকেট খেলতে পারবেন। কারণ, এটা নারীদের প্রয়োজন নেই।’ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে নারীদের মুখ ও দেহ ঢেকে রাখা কঠিন। ইসলাম নারীদের এ অবস্থাকে অনুমোদন করে না।’
তালেবানের সংস্কৃতিবিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আরও বলেন, এখন মিডিয়ার যুগে। এখন খেলায় প্রচুর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় এবং এটা মানুষ দেখে। ইসলাম ও ইসলামিক আমিরাত (আফগানিস্তান) নারীদের ক্রিকেট খেলা বা শরীর অনাবৃত হয়, এমন কোনো খেলা অনুমোদন করে না।