বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে অংশীদারত্বের জায়গা থেকে ডাক বিভাগ এবং ‘নগদ’ (থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড) কর্র্তৃপক্ষ এখন মালিকানার পর্যায়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন।
এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই ডাক বিভাগ ৫১ শতাংশ এবং নগদ ৪৯ শতাংশের মালিক হচ্ছে। বিষয়টি এখন রাষ্ট্রের আইন অনুসারে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন এক ভিডিও বার্তায় এমন মন্তব্য করার পরপরই এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নগদ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. সিরাজ উদ্দিন বলেছেন ‘নগদ’ ডাক বিভাগের সঙ্গে রাজস্ব আয়ের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা। ‘নগদ’ সব সময়ই ডাক বিভাগের অনুমোদন নিয়েই নতুন ব্যাংক হিসাব খোলে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই চিঠির কারণে কারও বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
মো. সিরাজ উদ্দিন আরও বলেন, নগদ আড়াই বছরে যে সফলতা পেয়েছে, তা অনেকের মধ্যে ঈর্ষার জন্ম দিয়েছে, তাই নগদ নিয়ে চক্রান্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডকে গত ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তন করে নগদ লি. করা হয়েছে। নাম পরিবর্তনের প্রায় সাত মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংক নগদের নামে ‘ট্রাস্ট-কাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট’ খোলার ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনায় বলা হয়, মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) নগদের ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব খোলার আগে ডাক বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। গত ২ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে সব ব্যাংক প্রধানদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
‘নগদ’ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পরিচালনা করে আসছিল থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানের নামেই আগে হিসাব খোলা হতো। ডাক বিভাগের সেবা বলা হলেও এখানে ডাক বিভাগের কোনো মালিকানা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব হলো এক ধরনের সংরক্ষিত হিসাব। এই হিসাবে নগদ কর্র্তৃক ইস্যু করা ইলেকট্রনিক মুদ্রার বিপরীতে গ্রাহকের অর্থ জমা রাখা হয়। এ হিসাবে জমাকৃত অর্থ অনুমোদিত খাত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় না।
প্রথমে ডাক বিভাগের এই সেবাকে এমএফএস হিসেবে নিবন্ধন না দেওয়ায় কোনো ব্যাংক নগদের সঙ্গে লেনদেন করত না। পরে গত বছরের এপ্রিলে নগদ এমএফএস হিসেবে কার্যক্রম চালাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাময়িক অনুমোদন নেয়। ওই সময় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমএফএস-সংক্রান্ত নীতিমালা ও বেঁধে দেওয়া লেনদেনের সীমা যথাযথভাবে মেনে চলতে বলা হয় নগদকে।