নীল সাগরের পানিতে ঘেরা বার্বাডোস দ্বীপ, মানবতা ও শান্তির ধর্ম ইসলাম সেখানেও তার উপস্থিতি জানান দিয়েছে। সমীক্ষা অনুসারে ৫ হাজারের বেশি মুসলমান বাস করেন ক্যারিবিয়ানের এই দ্বীপে। বার্বাডোস ক্যারিবীয় সাগরে পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এটি ক্যারিবীয় সাগরের দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পূর্বে অবস্থিত। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ব্রিজটাউন দেশটির বৃহত্তম শহর, প্রধান বন্দর ও রাজধানী। বার্বাডোসের জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ জনগণ মুসলমান। বার্বাডোসে চারটি মসজিদ ও কয়েকটি নামাজঘর রয়েছে। সম্প্রতি বার্বাডোসের মুসলমানরা দেশটিতে নির্মিত প্রথম জামে মসজিদের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছেন। স্থানীয়ভাবে ‘জুম্মা মসজিদ’ (জামে মসজিদ) নামে পরিচিত মসজিদটি রাজধানী ব্রিজটাউনে অবস্থিত।
দেশটিতে বসবাসকারী মুসলমানদের বেশির ভাগই ভারতের গুজরাট থেকে আসা। অল্প কিছু মুসলমান গিনি, ত্রিনিদাদ ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসেছেন। বসবাস শুরুর পর অভিবাসী মুসলমানরা নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। এটিই বার্বাডোসে স্থাপিত প্রথম মসজিদ। এটি দ্বীপের বৃহত্তম মসজিদও।
মসজিদ প্রতিষ্ঠার আগে স্থানীয় মুসলমানদের সম্মিলিতভাবে নামাজ আদায়ের জন্য কোনো মসজিদ না থাকায় দুটি মুসলিম পরিবার তাদের বাড়িতে নামাজের জন্য কিছুটা জায়গা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটাও খুব যথেষ্ট ছিল না। এমতাবস্থায় অভিবাসী মুসলমানদের উদ্যোগে নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য ১৯৪৯ সালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় কেনিংস্টন নিউ রোডের কাছে ৬৭০০ বর্গফুট জমি খরিদ করা হয়। এ জায়গা কেনার খবরে বার্বাডোসের মুসলমানরা যেন উৎসবে মেতে ওঠে। মুহাম্মদ ইউসুফ দেগিয়া নামক একজন স্থপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় মসজিদ নির্মাণের জন্য। তিনি অত্যাধুনিক মেশিনে স্থানীয় প্রবাল, ঝিনুক, সামুদ্রিক পাথরের সংমিশ্রণে এক ধরনের বিশেষ টালি তৈরি করে তা দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করেন। দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় এ ধরনের টালি দিয়ে বার্বাডোসে বাড়ি বানানোর রীতি খুবই পরিচিত। তবে ইউসুফ দেগিয়া টেকসই টালি তৈরি করেন মসজিদের জন্য। তিনি মসজিদের মিম্বর, মেহরাব এবং মিনারও তৈরি করেন নানা রঙিন টালি সহযোগে। স্থানীয় মুসলমানরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে মসজিদটি তৈরির কাজে সহায়তা করেন। ত্রিনিদাদের মুসলমানরাও সাহায্য পাঠিয়েছিলেন। ১৯৫১ সালের ২৬ জানুয়ারি পবিত্র জুমার নামাজের মাধ্যমে সর্বসাধারণের জন্য মসজিদের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। ওই দিনটি বার্বাডোসের মুসলমানের কাছে এক ঐতিহাসিক দিন।
মসজিদ নির্মাণের প্রায় ৩০ বছর পর ১৯৮০ সালে মসজিদটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার সময় মসজিদটিতে মাত্র ৯৫ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারতেন। সম্প্রসারণের পর সেখানে পাঁচ শতাধিক মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
সম্প্রসারণের পর মসজিদটি একটি অত্যাধুনিক ভবনে পরিণত হয়েছে। মসজিদ ভবনে লাগানো সুদৃশ্য সবুজ কাচের জানালাগুলো দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। জার্মানি থেকে আনা হয়েছিল ওই কাচ। মসজিদের মেঝেতে বিছানো কার্পেট আনা হয়েছে মিসর থেকে। ১৯৮০ সাল থেকে নিয়মিত পাঁচবার আজান ও জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় মুসলমানরা তো বটেই, পর্যটকরাও সেখানে নামাজ পড়েন পরম শান্তিতে। জামে মসজিদ ছাড়া বার্বাডোসের অন্য মসজিদগুলো হলো মদিনা মসজিদ, মক্কি মসজিদ এবং মসজিদ আন নুর। সবগুলো মসজিদের সঙ্গে কোরআন হেফজ করার মাদ্রাসাসহ ইসলাম প্রচার কেন্দ্র রয়েছে।