তিন সপ্তাহ ধরে শনাক্ত নিম্নমুখী

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ে কিছুটা ভাটা পড়েছে। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কমছে। গতকাল রবিবার থেকে শুরু করে আগের এক সপ্তাহে বিশ্বে শনাক্ত কমেছে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ১১ শতাংশ আর আলোচ্য সময়ে মৃত্যু কমেছে ৯ শতাংশ। গত ১৯ আগস্ট থেকে শনাক্ত এবং ২৫ আগস্ট থেকে মৃত্যু নিম্নমুখী। তবে এর মধ্যেই বিশ্বজুড়ে শনাক্ত রোগী ২২ কোটির মাইলফলক পেরিয়ে সাড়ে ২২ কোটিতে পৌঁছেছে। আর মৃত্যু ৪৬ লাখ পেরিয়ে সাড়ে ৪৬ লাখ ছুঁইছুঁই।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাব বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায়ও মৃত্যু ও শনাক্ত কমেছে বিশ্বে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ হাজার ৭০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৫১ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় যা ছিল যথাক্রমে ৯ হাজার ১৫৪ এবং ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ৮৩৫ জনে। শনাক্ত হয়েছে ২২ কোটি ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ১৪৫ জন।

বিশ্বে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুতে এখনো শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৭৩৭ জন। আর সুস্থ হয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৭ জন।

সংক্রমণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৩২ হাজার ১৬৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৬৮৮ জন। আর সুস্থ হয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৩১ জন।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে শনাক্তের সংখ্যা ২ কোটি ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫০ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৩ জন। আর সুস্থ হয়েছে ২ কোটি ১৬ হাজার ১৬১ জন।

সংক্রমণের তালিকায় এর পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, তুরস্ক, ইরান, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, স্পেন, ইতালি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। আর ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে।

সংক্রমণ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ইউরোপের কিছু দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশগুলোতে চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হয়। এর বিপরীতে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে ভারতসহ এশিয়ার কিছু দেশে। ভারত থেকে ছড়িয়ে পড়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশের অবস্থা আবারও খারাপ হতে শুরু করে।