জীবিকা উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যবসার মাধ্যমে একজনের পণ্যসামগ্রী অন্যের কাছে পৌঁছায় এবং মানুষের প্রয়োজন পূরণ হয়। সমাজের বড় একটি অংশ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী সততা ও আমানতদারির সঙ্গে মানুষের কল্যাণকামী হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে সন্দেহাতীতভাবে ব্যবসা ইবাদতে পরিণত হবে।
সততা ও আমানতদারি : ব্যবসায় সততা ও আমানতদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যবসায়ীদের মধ্যে সততা ও আমানতদারি থাকলে বাজার অশান্ত হবে না, কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে না এবং ক্রেতাও প্রতারিত হবে না। সবাই তৃপ্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে কেনাকাটা করতে পারবে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের উপার্জন শতভাগ হালাল ও বরকতময় হবে এবং পরকালে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কাতারে দাঁড়ানোর সুযোগ হবে। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী (কেয়ামতের দিন) নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’ তিরমিজি : ১২০৯
পণ্যের ত্রুটি থাকলে তা প্রকাশ করে বিক্রি করা : পণ্য ক্রেতার সামনে খোলামেলাভাবে উপস্থাপন করা বিক্রেতার দায়িত্ব। পণ্যের ছেঁড়া বা পচা অংশ না দেখিয়ে অথবা ভালোটি দেখিয়ে তার সঙ্গে খারাপগুলোও সরবরাহ করা নিশ্চিত প্রতারণা। নবী করিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পণ্যের ত্রুটি বর্ণনা না করে (বরং গোপন করে) বিক্রয় করে, সে সর্বদা আল্লাহর গজবের মধ্যে থাকে এবং ফেরেশতারা সব সময় তাকে অভিশাপ করতে থাকে। ইবনে মাজাহ : ২২৪৭
সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করা : পণ্যের পরিমাপে কমবেশি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সঠিক ওজন বা পরিমাপ নিশ্চিত করতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মন্দ পরিণাম তাদের যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পুরো মাত্রায় গ্রহণ করে এবং যখন তাদের জন্য মাপে অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।’ সুরা মুতাফফিফিন : ১-৩
স্বত্ব বা হস্তগত হওয়ায় আগে বিক্রি না করা : কোনো পণ্য নিজে মালিক না হয়ে বা নিজের আয়ত্তে আসার আগে বিক্রি করা যাবে না। কারণ এভাবে বিক্রি করে ক্রেতাকে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। হস্তান্তর করতে না পারলে বিক্রির কোনো অর্থ হয় না। নবী করিম (সা.) বলেন, কোনো ব্যক্তি খাদ্যশস্য কিনলে সে যেন তা হস্তগত করার আগে বিক্রি না করে। সহিহ বোখারি : ২০২৯
অনিশ্চিত কিছু বিক্রি না করা : ব্যবসায় এমন কোনো অবস্থায় সম্মুখীন হওয়া যাবে না, যাতে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা থাকে। সরল মনে ও সরল পথে ব্যবসা করতে হবে। জটিলতা এড়িয়ে চলতে হবে। সবার স্বার্থ ও সুবিধা দেখতে হবে। এজন্যই নবী করিম (সা.) বিশেষ কিছু পদ্ধতির ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন। হাদিসে বলা হয়েছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) গবাদি পশুর গর্ভস্থ বাচ্চা প্রসবের আগে, পশুর স্তনের দুধ পরিমাপ না করে, পলাতক দাস, গনিমতের মাল বণ্টনের আগে, দান-খয়রাত হাতে আসার আগে এবং ডুবুরির বাজির (ডুব দিয়ে যা পাবে) ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। ইবনে মাজাহ : ২১৯৬