খাদ্যসংকট থাকলেও উত্তর কোরিয়ার রয়েছে বিধ্বংসী সব মিসাইল। সম্প্রতি দেশটি ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এমন একটি মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে। এই মিসাইল পরীক্ষার পরই নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র। আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য উত্তর কোরিয়া ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছেএমন এক বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেদিন শপথ নেন জো বাইডেন, ঠিক তার আগের দিনই উত্তর কোরিয়া সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপণযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে। ওই ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা কতটা, তা জানা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যে ওই মিসাইল হুমকির তা স্পষ্ট বোঝা যায়। উত্তর কোরিয়ার চেয়ারম্যান কিম জং উন সম্প্রতি বলেন, তার দেশে ক্ষুধার সমস্যা থাকলেও তারা ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন চালিয়ে যাবেন।
২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া তার সবচেয়ে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হাওসং-১২-এর পরীক্ষা চালায়। ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। অর্থাৎ, প্যাসিফিক আইল্যান্ড গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের যে ঘাঁটি রয়েছে তা এখন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের সীমার মধ্যে। এরপর কিমের নেতৃত্বে দেশটির সামরিক বাহিনী হাওসং-১৪ নামের আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। ওই ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা ১০ হাজার কিলোমিটার। এই ক্ষেপণাস্ত্র অনায়াসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে পৌঁছে যেতে পারবে।
হাওসং-১৫ নামের ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষার সময় যে উচ্চতায় ছোড়া হয়েছিল তা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে ১০ গুণ বেশি উচ্চতায় পৌঁছায়। ফলে উত্তর কোরিয়ার হাতে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনও নিরাপদ না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত ট্রাজেক্টরি ব্যবহার করে যদি ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোড়া হয়, তাহলে তা ১৩ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত যেতে পারে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে পারবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র।
গত বছরের অক্টোবরে আরও একটি ব্যালাস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালায় দেশটি। ওই মিসাইল কত দূরত্ব পর্যন্ত যেতে পারে, তা প্রকাশ করেনি দেশটি। পশ্চিমারা বিশ্বাস করে, ওই মিসাইলটি নিউক্লিয়ার ওয়্যারহেড বহনে সক্ষম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটি সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপণযোগ্য আরও একটি ব্যালাস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালায়। এরপরই উত্তর কোরিয়া জানায়, তাদের হাতে বিশে্বর সবচেয়ে শক্তিশালী মিসাইল রয়েছে।