ডুবোচরে আটকা লঞ্চ উদ্ধার হয়নি ৪ দিনেও

ঝালকাঠির রাজাপুরের বিষখালী নদীতে সিগন্যাল বাতি না থাকায় ঢাকা-বরগুনা রুটের পূবালী-১ নামের একটি দোতলা লঞ্চ চারদিন ধরে ডুবোচরে আটকা পড়ে আছে।

উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নরে চরপালট এলাকার ডুবো চরে গত চার দিন আগে আটকা পড়লে অনেক চেষ্টা করেও লঞ্চটি নদীতে নামানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত তিনটার দিকে হঠাৎ ঝড়ো বাতাসে পূবালী-১ নামের ওই লঞ্চটি প্রায় সাড়ে ৩শ যাত্রী নিয়ে উপজেলার চরপালট এলাকায় ডুবোচরে আটকে যায়।

এতে ওই লঞ্চে থাকা যাত্রীরা পড়ে চরম দুর্ভোগে। পরে কিছুযাত্রী রাজারহাট-বি নামে অপর একটি লঞ্চে তুলে দেয় পূবালী-১ লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। বাকিরা সকালে যে যার মত করে নিজ খরচে গন্তব্যে ফিরেছে।

পূবালী-১ লঞ্চের মাস্টার জহিরুল ইসলাম জানান, নৌপথে বিভিন্ন স্থানে সিগন্যাল থাকার কথা থাকলেও ঢাকা থেকে বরগুনার পথে ঝালকাঠির পরে আর কোন সিগন্যাল নেই। সিগন্যাল বাতি না থাকায় রাতে কিছুই বোঝা যায় না, জোয়ারের পানিতে সব একই মনে হয়। তাই কোনটা ডুবোচর আর কোনটা নদী এটা বোঝার কোন উপায় থাকে না। ঘটনার রাতে হঠাৎ ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যায়।

লঞ্চের তত্ত্বাবধায়ক ইমরান খান রাসেল জানান, লঞ্চটি চরে আটকে যাওয়ার পর ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি কেটে লঞ্চ নদীতে নামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। এখন অন্য পদ্ধতিতে লঞ্চ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বরিশাল নদী বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে দুইজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে সরেজমিন পরিদর্শন করে রিপোর্ট  দিতে বলা হয়েছে। যেসব স্থানে সিগন্যাল নেই সে সব জায়গায় শিগগিরই সিগনাল বাতি বসানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট অভিযান-১০ নামে আরও একটি লঞ্চ একই স্থানের ডুবো চরে আটকা পড়েছিল। যা ১৫দিন পরে উদ্ধার করেছিল লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।