নিখোঁজের দুদিন পর চাচির ঘরের গর্তে শিশুর লাশ

মাদারীপুরের শিবচরে নিখোঁজের দুদিন পর আড়াই বছরের শিশু কুতুবউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে শিবচর থানা-পুলিশ। শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা বাঘিয়ার আরবআলী বেপারী কান্দি নামক এলাকায় আপন চাচি নার্গিস বেগমের ঘরের ভেতর থেকে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত বুধবার শিশু কুতুবউদ্দিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। চাচি হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

জানা গেছে, শিশুটিকে হত্যা করে ঘরের ভেতরে থাকা টয়লেটের পাশে গর্ত করে পুতে রাখে চাচি নার্গিস বেগম।

শিবচর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ১৫ সেপ্টেম্বর শিশু কুতুবউদ্দিন নিখোঁজ হয়। শিশুটির বাবা ইউনুস বেপারী বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার পুলিশের একটি চৌকস টিম সন্দেহভাজন চাচি নার্গিস বেগমকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিশু কুতুবউদ্দিনকে হত্যা করে ঘরে থাকা টয়লেটের পাশে মেঝে কেটে গর্ত করে সেখানে পুতে রাখার কথা স্বীকার করে নার্গিস বেগম। পরে শুক্রবার গভীর রাতে নার্গিস বেগমের দেখানো মতে ঘরের ভেতর গর্ত খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশুটির বাবা ইউনুস বেপারী জানান, আমার সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যা কারি বিচার চাই। এমন বিচার চাই যেন সারা দুনিয়া দেখে, আর কোন আপন মানুষ যেন কোন আপন মানুষের সঙ্গে বেইমানি করতে না পারে। নিজের আপন স্বামীর ভাইয়ের ছেলেকে এভাবে হত্যা করতে পারে?

শিবচর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মিরাজ হোসেন জানান, শিশু কুতুবউদ্দিনের আপন চাচি নার্গিস বেগম শিশুটিকে বাড়ি থেকে এনে হত্যা ঘরের ভেতর টয়লেটের পাশে গর্ত করে পুতে রাখে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে হত্যাকারীকে নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান ও আমিসহ পুলিশের একটি টিক ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে হত্যাকারী নার্গিস বেগম জানিয়েছে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন মালিন্য থাকার কারণেই তার ভাতিজা কুতুবউদ্দিনকে হত্যা করেছে ।