বিদ্যালয়ে গোপনে নিয়োগ, প্রতিবাদ করল এলাকাবাসী

নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলায় মাসকা ইউনিয়নে জয়কা সাতাশি উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি শূন্য ও দুটি সৃষ্ট পদে গোপনে নিয়োগ কার্যক্রম করা হচ্ছে। এই নিয়োগের পেছনে আর্থিক লেনদেন হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। তারই প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে এলাকাবাসী। শনিবার বেলা ১১টার দিকে এলাকাবাসীর ব্যানারে বিদ্যালয়ের ভবনের পাশে এই প্রতিবাদ সভা করা হয়।

গ্রামের মুরুব্বি ইদ্রিস মিয়ার সভাপতিত্বে ও স্থানীয় আ. লীগ নেতা আবু সিদ্দীক খান পাঠান লিটনের পরিচালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য তাহমিনা আক্তার, এম আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মাসকা গ্রামের হাবিবুর রহমান, বিদ্যালয়ে সাবেক সভাপতি রামতুষ চন্দ্র বিশ্বশর্মা, ইউপির সদস্য আব্দুল ওয়াহাব খান পাঠান, হাদিস মিমা, পল্লি চিকিৎসক কাজল, লুৎফর রহমান আকন্দ সেলিম মাস্টার, সেলিম আহমেদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সরকার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহীদুল হক ফকির বাচ্চু মিলে গোপনে বিজ্ঞাপন প্রচার করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ে তিনটি পদে নিয়োগ কার্যক্রমের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব অনিয়ম-দুর্নীতির নিয়োগ আমরা মানি না। অনিয়ম-দুর্নীতির কার্যক্রম বন্ধ না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সর্বাধিক ভোট পেয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্য তাহমিনা আকন্দ বলেন, আমাকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া করে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে আমি জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আমাকে জানায় কমিটি সদস্যপদ থেকে আমাকে নাকি বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি আমার অধিকার ফিরে পাওয়ার ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কার্যক্রম স্থগিতের জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছি। নেত্রকোনা সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহীদুল হক ফকির বাচ্চুকে ফোন দিলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং বলার কিছু নেই তার বলে জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সরকার বলেন, করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘদিন তাহমিনা আকন্দ পরিবারসহ এলাকায় ছিলেন না, কমিটির মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন না। অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়োগের জন্য নৈশ প্রহরী শূন্য পদে, অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী এই দুটি সৃষ্টি পদে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া এবং তা আবেদন সংগ্রহ পর্যন্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত নিয়োগে কোন কার্যক্রম এখনো হাতে নেওয়া হয়নি। কিছুদিন পরে হঠাৎ এসে মিটিংয়ের রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর করবেন বলে খাতা দেখতে চান কমিটির সদস্য তাহমিনা আকন্দ। আমি বলেছি মিটিংয়ে ছিলেন না কেন আপনি স্বাক্ষর করবেন।