দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদী দিন দিন সংকীর্ণ হয়ে আসছে। অমর কথাশিল্পী অদ্বৈত মল্লবর্মণের জন্মভিটা শহরের তিতাসপাড়ের গোকর্ণঘাটের ঠিক অপর পাশে নবীনগর উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের রসুলপুরে নদীর ওপর ভবন নির্মাণ করে তিতাসকে আরও সংকীর্ণ করে তুলেছেন দুই প্রবাসীসহ কয়েকজন। নদীর পাড়কে কৃষিজমি দেখিয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বন্দোবস্তের আবেদন করেই স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করেছেন তারা।
সরেজমিন দেখা যায়, নবীনগরের রসুলপুর গ্রামের মৃত আবদুল হাইয়ের ছেলে সৌদি প্রবাসী আবদুল কাদির তিতাস নদীর ১৪ শতক জায়গা দখল করে রেখেছেন। জায়গাটি স্থায়ীভাবে পাওয়ার জন্য ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর নাটঘর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আবেদন করেন। আবেদন মঞ্জুর হয়েছে কি হয়নি তার কোনো তোয়াক্কা না করেই নদীর প্রায় ৪ শতক জায়গা দখল করে তিন তলা ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি।
গ্রামে ঘুরে দেখা যায়, তিনি ছাড়াও একাধিক ব্যক্তি নদীর জায়গা দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণ করে অনেক বছর ধরে দখলে রেখেছেন। এদের মধ্যে আবদুল কাদিরের চাচাতো ভাই মৃত মোবারক সর্দারের ছেলে প্রবাসী ইয়াকুব মিয়াও সাড়ে তিন শতাংশ জায়গা দখল করে ইমারত নির্মাণ করেছেন। অন্যদিকে একই গ্রামের মৃত মন্তা মিয়ার ছেলে ইলু মিয়া নদীর ২ শতক জায়গায় তিনতলা ইমারত করে ১০ বছর ধরে বসবাস করছেন।
প্রবাসী আবদুল কাদিরের স্ত্রী রিমা বেগম সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার স্বামী দুই বছর আগে এখানে বিল্ডিং করেছেন, এ পর্যন্ত কেউ এসে বাধা দেয়নি।
ইয়াকুব মিয়ার ছোট ভাই প্রবাসী আরফান আলী বলেন, আমাদের জায়গা অধিগ্রহণ করে তিতাসের ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আমার ভাই এখানে জায়গা খালি পেয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করেন বছর তিনেক আগে।
এ বিষয়ে নদী নিরাপত্তার সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর’-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি জায়গাটি ১ নম্বর খতিয়ান অন্তর্ভুক্ত। যদি তা-ই হয় তবে এখানে স্থায়ী স্থাপনা তৈরির কোনো সুযোগ নেই।
নাটঘর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সালেহ আহমেদ বলেন, এ জায়গাটি রসুলপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৮৮৫ দাগের ৭ শতক ও ৮৭৩ দাগের ৭ শতক। খাসজমি দেখিয়ে স্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্য আবদুল কাদির দুই বছর আগে দরখাস্ত করেছেন, যা এখনো মঞ্জুর হয়নি।
নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোশারফ হোসেন বলেন, নদীর জায়গা বন্দোবস্ত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সেখানে স্থায়ী ইমারত তো করা যাবেই না। তারা কীভাবে ইমারত নির্মাণ করেছে জানি না। নায়েবকে সেখানে পাঠিয়ে খবর নিচ্ছি।