ইউএনও আসার খবরে পালিয়ে গেল বরপক্ষ

ঝালকাঠির রাজাপুরে দশম শ্রেণির (১৫) এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করছিলেন মা শিপন বেগম। বরপক্ষও কনের বাড়িতে উপস্থিত। বিয়ের ঘটনা স্থানীয়রা জানতে পেরে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়।

পরে নির্বাহী কর্মকর্তা রাতে স্থানীয় পুলিশের একটি দল নিয়ে সরেজমিনে উপস্থিত হন। এরই মধ্যে নির্বাহী কর্মকর্তা আসার খবর পেয়ে পালিয়ে যায় বরসহ আগত মেহমানরা সবাই।

গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম পুটিয়াখালী গ্রামে এমন বাল্য বিয়ের আয়োজন করায় মেয়ের মা শিপন বেগমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাত হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন ।

জানা গেছে, ছাত্রীর বাবা আব্দুল বারেক আকন খুলনার একটি কারখানায় চাকরি করায় মা অভিভাবক হয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক ছেলের সঙ্গে দশম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করছিলেন।

রাতে নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই বর পক্ষের ও মেয়ে পক্ষের মেহমানরা সবাই পালিয়ে যায়। এ সময় ঘরে শুধু ওই ছাত্রী, ছাত্রীর মা ও এক ফুপু উপস্থিত ছিলেন।

পরে নির্বাহী কর্মকর্তা ছাত্রীর মাকে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৮ ধারায় সাত হাজার টাকা জরিমানা করেন ও আঠারো বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না এই মর্মে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন বলেন, বাড়িতে মেয়ের বাবা ছাড়াও কোনো পুরুষ মানুষ উপস্থিত না থাকায় বাল্য বিয়ের আয়োজনকারী ছাত্রীর মা শিপন বেগমকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।