কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়েছিলেন পাতিয়ালার রাজপরিবারের সন্তান ও সেনাবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। আর ভোটের আগে দলিত সম্প্রদায়ের চরণজিৎ সিং চান্নিকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছে দল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, গত নির্বাচনে অমরিন্দরই কংগ্রেসকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কিন্তু দলের বিধায়কদের বড় অংশের বিদ্রোহ এবং রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরাগভাজন হওয়ার ফলে বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে সরে যেতে হলো তাকে।
রবিবার রাতে কংগ্রেস জানায়, চরণজিৎ পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সোমবার তার শপথ। ৫৮ বছর বয়সী চরণজিৎ তিনবারের বিধায়ক। অমরিন্দর মন্ত্রিসভায় তিনি কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
চরণজিৎ হবেন পাঞ্জাবের প্রথম দলিত মুখ্যমন্ত্রী। আর পাঞ্জাবে দলিতের সংখ্যা ৩১ শতাংশ। কংগ্রেসের প্রধান বিরোধী আকালি দল আগামী বিধানসভা ভোটে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে জোটে লড়বে। আকালির লক্ষ্য দলিত ভোট পাওয়া। তাই কংগ্রেস একজন দলিতকে মুখ্যমন্ত্রী করে ওই দলিত ভোটের সিংহভাগ পেতে চাইছে।
পাশাপাশি জাঠ শিখ ও হিন্দু পাঞ্জাবিরা যাতে ক্ষুব্ধ না হন, তার জন্য দুজন উপ মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হচ্ছে। একজন জাঠ শিখ এবং অন্যজন হিন্দু পাঞ্জাবি।
এ দিকে অমরিন্দর কংগ্রেসে থাকবেন, নতুন দল গঠন করবেন, নাকি অন্য কোনো দলে যোগ দেবেন তা স্পষ্ট করেননি। তিনি ইস্তফা দেওয়ার পর বলেছেন, সব বিকল্প খোলা আছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তার প্রধান কাজ হলো, সীমান্ত রক্ষা করা ও পাঞ্জাবের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া।
কংগ্রেস সূত্র জানাচ্ছে, অমরিন্দরের ইস্তফা গ্রহণ করা এবং চরণজিৎকে মুখ্যমন্ত্রী করাটা হলো রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সিদ্ধান্ত। সোনিয়া গান্ধী এখনো কংগ্রেস সভানেত্রী থাকলেও ভাই-বোনই এখন দলের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। রাহুল অবশ্য দলের কোনো পদেই নেই। শুধুমাত্র সংসদ সদস্য। তা সত্ত্বেও তিনি এখন দলের সব বিষয়েই শেষ কথা বলছেন। আর তাকে সাহায্য করছেন প্রিয়াঙ্কা। পাঞ্জাবের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।