কুষ্টিয়া শহরে নিজ বাড়ি থেকে মায়ের ঝুলন্ত ও বিছানা থেকে শিশুপুত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের চর থানাপাড়া এলাকা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক সাব্বিরুল আলম।
মৃতরা হলেন- আকলিমা খাতুন (৩২) ও তার ৯ মাস বয়সী ছেলে জিম। আকলিমা কুষ্টিয়া শহরের চর থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাজেদ মোল্লার মেয়ে এবং একই এলাকার অটোরিকশা চালক রতনের স্ত্রী। আকলিমা-রতন দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে মা-ছেলের মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ জানাতে পারেনি। তবে প্রতিবেশীদের কারও কারও ধারণা, তীব্র অনটনের কারণে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আকলিমা তার শিশুসন্তানকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন।
মৃত আকলিমার একাধিক প্রতিবেশী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল ভোরের কোনো এক সময় বাড়ির সবার অজান্তে প্রথমে নিজের নয় মাস বয়সী শিশুপুত্র জিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আকলিমা আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে বাড়ির লোকজন ঘরে মা-ছেলের লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা সেখানে হাজির হয়। পরে তাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মৃত আকলিমার প্রতিবেশী রেহেনা খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংসারে সীমাহীন অভাব-অনটনের কারণে দুধের বাচ্চাটাকে পর্যন্ত ঠিকমতো খাবার দিতে পারেনি আকলিমা। বেশ কিছুদিন ধরে শিশুটি অসুস্থও ছিল, ঠিকমতো ডাক্তার দেখানো বা ওষুধ কিনে দিতে পারেনি। এ নিয়ে মানসিকভাবে চরম বিধ্বস্ত অবস্থায় দিন কাটছিল আকলিমার। যে কারণে ঠিকমতো স্বাভাবিকভাবে সবার সঙ্গে কথাবার্তাও বলত না। আমাদের ধারণা আকলিমা প্রথমে নিজের শিশুসন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে নিজে আত্মহত্যা করে।’
মা-ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক সাব্বিরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিবেশীরা বলছে আকলিমা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন, তিনি নিজের সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে যে কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।’