ত্রিদেশীয় নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্সের সম্পর্কে যে টানাপড়েন দেখা দিয়েছিল সাময়িকভাবে হলেও তার সমাধান হয়েছে। গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন কিনতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তি করে। এতে আগে ফ্রান্সের সঙ্গে করা ৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি বাতিল করে ক্যানবেরা। এতে ক্ষুব্ধ হয় ফ্রান্স। এই চুক্তিকে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল বলে মন্তব্য করে তারা। চুক্তির জের ধরে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূতদের প্রত্যাহার করে নেয় দেশটি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এক ফোনেই মান ভেঙেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর। আগামী সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। এছাড়া আগামী মাসেই দুই প্রেসিডেন্ট মুখোমুখি দেখা করছেন বলেও দুই দেশের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের খবর অনুসারে, গত বুধবার ফরাসি প্রেসিডেন্টের কাছে ফোন করেছিলেন বাইডেন। প্রায় আধা ঘণ্টা কথা হয়েছে তাদের। ম্যাক্রোঁকে বাইডেন বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি করার আগে তাদের ফ্রান্সের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া উচিত ছিল। এবার ভুল হলেও ভবিষ্যতে তা অবশ্যই করা হবে। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য, বাইডেনের এই ‘সরল স্বীকারোক্তি’তেই বরফ গলেছে প্যারিসের। তবে চুক্তি করার আগে আরও আলোচনা দরকার ছিল মানলেও বাইডেন অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি মূলত প্রক্রিয়াগত ভুলের কথা স্বীকার করেছেন। আগে পরামর্শ করা উচিত ছিল তা বলেছেন এবং ভবিষ্যতে পরামর্শ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে নতুন এক জোট গড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিন দেশের সরকারপ্রধান যৌথভাবে এ জোটের ঘোষণা দেন। চুক্তি অনুসারে, অস্ট্রেলিয়াকে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন তৈরিতে সাহায্য করবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ফ্রান্স।
২০১৬ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে ডিজেলচালিত সাবমেরিন কিনতে কয়েকশ কোটি ডলারের চুক্তি করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেই চুক্তি বাদ দিয়ে পারমাণবিক শক্তিচালিত অত্যাধুনিক সাবমেরিন তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে অজি সরকার। এ প্রসঙ্গে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তায় দ্রুত পরিবর্তন’ আসার কারণে প্রচলিত সাবমেরিনগুলো চাহিদার ‘অনুপযুক্ত’ হয়ে পড়েছে।
এতেই ক্ষেপেছিল ফ্রান্স। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভস লে দ্রিয়াঁ এটিকে সরাসরি ‘পিঠে ছুরি মারা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেছিলেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়েছিলাম, সেটি ভাঙা হয়েছে।