এ কোন বার্সেলোনা!

বার্সেলোনা মানেই তিকি-তাকা ফুটবল। কিন্তু লিওনেল মেসি পিএসজিতে যাওয়ার পর তার ছিটেফোঁটাও যেন নেই কাতালান দলটিতে। লা লিগায় আগের ম্যাচে গ্রানাদার সঙ্গে ক্রসনির্ভর ফুটবল খেলে ১-১ ড্র করেছিল বার্সেলোনা। শুক্রবার কাদিজের ম্যাচটিতে গোলও করতে পারেনি। গোলশূন্য ড্র হয়েছে ম্যাচটি। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে (লাল কার্ড) মাঠ ছাড়তে হয় ফ্রাঙ্ক ডি ইয়ংকে। আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখেন বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোম্যান। এ কোন বার্সা!

বৃহস্পতিবার কাদিজের মাঠে প্রথমার্ধের বিবর্ণ পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে একটু জ্বলে ওঠার আভাস দেয় বার্সেলোনা। তবে ডি ইয়ংয়ের লাল কার্ডে আবার দিকহারা দলটি। তাতে লিগ-চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচ জয়শূন্য রইল কাতালান ক্লাবটি। আর কাদিজের মাঠে টানা দুই ম্যাচে জয়শূন্য। গত মৌসুমে এই মাঠেই ১-২ গোলে হেরেছিল বার্সা। আর নিজেদের মাঠেও জিততে পারেনি (১-১)।

ম্যাচের ৬৮ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলমুখে ছয়টি শট নেয় বার্সেলোনা, যার মাত্র দুটি ছিল লক্ষ্যে। আর মাত্র ৩২ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা কাদিজ শট নেয় ১৩টি, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। কাদিজের কৌশল ছিল, সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে কাঁপিয়ে দেওয়া। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে মাঝমাঠে আলফনসো এসপিনোকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ডি ইয়ং। টিভি রিপ্লেতেও সিদ্ধান্তটি বাড়াবাড়ি বলে মনে হয়। কারণ, এসিপিনোর সঙ্গে পায়ে পায়ে সংঘর্ষের আগে বলে স্পর্শ করেছিলেন ডাচ মিডফিল্ডার। এই লাল কার্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে বার্সেলোনা কর্র্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না বলে মনে করেন জেরার্ড পিকে। ‘ডি ইয়ংয়ের দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটা দেওয়া ঠিক ছিল বলে আমি মনে করি না। সে ফুটবলারের পা এড়িয়ে অনেক দূরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এটা হয়নি।’

ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে যা ঘটে তাতে মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি কোম্যান। মাঠে তখন আরেকটি বল ঢুকে পড়েছিল। সার্জিও বুসকেটস সে বলে লাথি মারেন। খেলা থামাতে তখন কাদিজের এক খেলোয়াড়কে কড়া ভাষায় কিছু বলেন কোম্যান। চতুর্থ রেফারির সঙ্গেও কথা বলেন। রেফারি ছুটে গিয়ে লাল কার্ড দেখান কোম্যানকে। কোম্যানের কথা, ‘চতুর্থ রেফারিকে শুধু বলেছি, মাঠে দুটো বল। এই দেশে কিছু না বললেও বের করে দেওয়া হয়। খুব শান্তভাবে রেফারিকে জিজ্ঞেস করেছি। কিন্তু কী আর করা, এটা আমার সমস্যা নয়।’

আগের ম্যাচে গ্রানাদার রক্ষণ ভাঙতে পুরো ম্যাচে ৫৪টি ক্রস করেছিল বার্সেলোনা। শেষ কবে বার্সেলোনা এক ম্যাচে এত ক্রস করেছিল, সেটি এক গবেষণার বিষয়ই হতে পারে। কোম্যান নিজেই বলেছেন, আগের মতো তিকি-তাকা ফুটবল খেলার মতো অবস্থায় নেই বার্সেলোনা। কাদিজের সঙ্গে ম্যাচেও খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা ছিল দৃষ্টিকটু। এ যেন এক ছন্নছাড়া দল। বার্সা গোলকিপার টের স্টেগান বেশ কয়েকবার রক্ষা করেন দলকে। মেম্ফিস ডিপে এদিন দুটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেন।

এই ড্রতে সমালোচনার মুখে থাকা কোম্যানের ওপর চাপ বাড়ল আরও। কাদিজের সঙ্গে ম্যাচের আগে বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট হুয়ান লাপোর্তা বলেছিলেন, ‘আজ রাতের (কাদিজ ম্যাচে) ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কোম্যানের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত হবে না। তিনি বার্সেলোনার কোচ এবং আমরা চাই তার জন্য সবকিছু ভালো হোক।’ তবে কোম্যানকে বলতে গেলে হুমকিও দিয়ে রেখেছেন লাপোর্তা। ‘কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই আমাদের (বোর্ডের) কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজন হলে কিছু সিদ্ধান্ত মাঝে মাঝে নিতেই হবে।’ কাদিজের সঙ্গে ড্রয়ের পর কোম্যানের ভগ্যে কী ঘটে সেটি হবে দেখার বিষয়।

৫ ম্যাচে ২ জয় ও ৩ ড্রতে ৯ পয়েন্টে বার্সেলোনা আছে লিগ টেবিলের সপ্তম স্থানে। এই অবস্থায় সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পিকে। বলেছেন, ‘আমি আমার সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত। আমি আশা করি সমর্থকদের রবিবার (লেভান্তের সঙ্গে) আমরা জয় উপহার দিতে পারব। লা লিগায় তৃতীয় বা চতুর্থ হওয়ার জন্য আমি বার্সেলোনার জার্সি গায়ে তুলিনি। এটা অগ্রহণযোগ্য।’