কিমের বোনে বদলাচ্ছে কোরীয় রাজনীতি

দক্ষিণ কোরিয়া যদি তাদের ‘শত্রুতাপূর্ণ’ নীতি থেকে সরে আসে, তবেই দেশটির সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। এমন মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ অবসানে দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনেরর আহ্বানের পর প্রতিক্রিয়া জানালেন তিনি। এমন আহ্বানকে দুই কোরিয়া পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া ও ওই অঞ্চলের রাজনীতির পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ভাষণে কোরীয় যুদ্ধ বন্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আহ্বান জানান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। মুন বলেন, কোরীয় যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য আমি বিশ^সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি। তার এমন আহ্বানকে গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে প্রশংসনীয় উল্লেখ করেছেন কিম ইয়ো। দ. কোরিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আলোচনার আগে অবশ্যই দ্বিমুখী মনোভাব, অযৌক্তিক পক্ষপাত, খারাপ অভ্যাস পরিহার করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের আত্মরক্ষার অধিকারের ন্যায়সংগত অনুশীলনে দোষ দেওয়া বন্ধ করা প্রয়োজন।’ আর যখনই এই শর্তগুলো পূরণ করা সম্ভব, তখনই দুপক্ষ মুখোমুখি আলোচনায় বসে কোরীয় যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব।’

মুন এর আগেও যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা চালান। তখন তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে সহায়তা করবে। কিন্তু ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আগে পিয়ংইয়ংকে অবশ্যই পরমাণু অস্ত্র ছাড়তে হবে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার চেয়ারম্যান কিম জং উনের মধ্যে কয়েকবার বৈঠক হয়। কিন্তু সেই বৈঠকগুলো থেকে তেমন কোনো সমাধানের রাস্তায় হাঁটতে পারেননি উভয় নেতার কেউই।

১৯৫০ সালের ২৫ জুন শুরু হয় কোরীয় যুদ্ধ। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে উত্তর কোরীয় ট্যাংক ও সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করে। যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার হয়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ৭০ বছর আগের ওই যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ায় নিহত হন কয়েক হাজার যুক্তরাষ্ট্রের সেনা। এর তিন বছরের মাথায় একটি চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই দেশ। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কোরীয় যুদ্ধের এখনো ইতি টানা হয়নি। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বৈরী পরিস্থিতি চলে আসছে। একাধিকবার উভয় দেশের সীমান্তে উত্তেজনাকর সামরিক পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছিল।