রোমে যেতে না দেওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিদেশ গেলেন, অথচ আমাকে কেন যেতে যেওয়া হল না?’
এর পরই তাঁর বক্তব্য, ‘প্রতিহিংসাবশতই আমাকে আটকানো হল’। শনিবার এ ভাবেই নরেন্দ্র মোদীর সরকার ও বিজেপি-কে আক্রমণ করলেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারসভায় এসে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। শনিবার সকালেই জানা গিয়েছিল, তাঁর রোম সফরে অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার।
শনিবার সন্ধ্যায় মমতা বলেন, ‘কোভ্যাক্সিন নিয়ে কেউ আমেরিকা, ব্রিটেনে যেতে পারবেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভ্যাক্সিনকে মান্যতা দেয়নি। কিন্তু বিশেষ অনুমতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গিয়েছেন। অথচ অনেকেই নিজের কাজে যেতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী গিয়েছেন, যেতে দাও। কিন্তু আমাকে কেন প্রতিনিধিত্ব করতে দেওয়া হল না?’
তিনি আরও বলেন, ‘ওখানে আমি গিয়ে হিন্দুত্বের প্রতিনিধিত্ব করতাম। মুখে তো এত বড় বড় হিন্দুত্বের কথা বলেন। কিন্তু প্রতিহিংসাবশত আমাকে আটকানো হল’।
মমতা বলেন, ‘বিশ্ব শান্তির জন্য রোমে একটা সম্মেলন হচ্ছে। দু’মাস আগে তাঁরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। জার্মান চ্যান্সেলর যাবেন, পোপ থাকবেন, মিশরের ইমাম থাকবেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীও থাকবেন। আমার কাছেও আমন্ত্রণ এসেছিল। ইতালি সরকার আমাদের বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল’।
এর পর যোগ করেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এত বড় বিশ্ব শান্তি সম্মেলন এর আগে হয়নি। কিন্তু আজ চিঠি দিয়ে অনুমতি দিতে অস্বীকার করল। বলা হল, মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে যাওয়া ঠিক হবে না’।
এর আগে ২০১৮ সালে মমতার কুনমিং সফরও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই মমতা বলেন, ‘আমি যেখানে যেতে চাই, সেখানেই বারণ করে দেয়। আমাদের ছাড়া কারও যাতায়াতের ক্ষেত্রে তো এমনটা করা হয় না’।
তাঁর বক্তব্য, ‘যদি শান্তির কথা আসে, তা হলে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ আমাকে কেন দেওয়া হল না? আমাকে যেতে না দিয়ে বেআইনি কাজ করেছেন, বেইজ্জত করেছেন। আমি বিদেশে ঘুরতে যাই না। আমার আগ্রহ নেই। যেখানে দেশের সম্মান যুক্ত, সেখানে আমাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল’।