দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। ১০৬ কিলোমিটার দূরত্বের এ মহাসড়কটি ঘিরে রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ফুলবাড়ি ও নবাবগঞ্জের দীঘিপাড়া কয়লা খনি, মধ্যপাড়া পাথর খনি, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, একটি লোহার খনি এবং হিলি ও বিরল স্থলবন্দর। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি ছয় লেন করা হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়নের বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রমতে, ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়ক দিয়ে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় যেতে দুই ঘণ্টা বেশি সময় এবং ৫০ কিলোমিটার বেশি রাস্তা অতিক্রম করতে হয়। এজন্য এ তিন জেলায় যাতায়াতকারী যানবাহন গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহার করে। এছাড়া হিলি স্থলবন্দরের ৯৯ শতাংশ পণ্যবাহী যানবাহন এ সড়কে যাতায়াত করে। ফলে এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। কিন্তু যানবাহনের তুলনায় মহাসড়কটি প্রশস্ত নয়। বর্তমানে মহাসড়কটির ৮৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ৭ মিটার প্রশস্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলে শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের।
হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও হিলি আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ এতগুলো খনির অধিকাংশ যানবাহন এ মহাসড়ক ব্যবহার করে। এছাড়া হিলি স্থলবন্দরের পাশাপাশি সম্প্রতি চালু হয়েছে বিরল স্থলবন্দর। তাই এ অঞ্চলের উন্নয়নে মহাসড়কটি ছয় লেন করার কোনো বিকল্প নেই।’
দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক বলেন, ‘বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ থাকায় কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র বিকাশের সম্ভাবনা থাকার পরও শুধু যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় দিনাজপুরে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি। ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত হচ্ছে। দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করতে সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে দাবি জানিয়েছি।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, ‘এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের বিকল্প নেই। ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হলেই তা সম্ভব। দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়ক অপ্রশস্ত রেখে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার সুফল ভোগ করা যাবে না।’