ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিমান প্রতিরক্ষা মহড়া দিচ্ছে চীন। নিজেদের নির্মিত বিমান নিয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মি রীতিমতো যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। বলা হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি যুদ্ধবিমান। সেই যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের বহরকে ছাড়িয়ে গেছে চীন।
গত আগস্টে চীনের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ফ্রাঙ্ক কেনডাল এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে চীনের বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন হচ্ছে। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাবনার কিছু নেই কারণ তাদের আছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
ওই মন্তব্যের জবাবেই মঙ্গলবার চীনের ডেপুটি এয়ার ফোর্স কমান্ডার ওয়াং ওয়েই বিমান প্রদর্শনীতে বলেন, ‘সম্প্রতি চীনকে ভীত করতে চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি। জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষায় সক্ষম চীনের নৌবাহিনী। আমি শুধু এটা বলতে পারি, তারা যদি চীনের সক্ষমতা নিয়ে ভীত না হয়, তাহলে চলুন আকাশেই দেখা হোক।’
দ্য ঝুহাই এয়ারশোর আনুষ্ঠানিক নাম হলো, চায়না ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস এক্সিবিশন। প্রতি দুই বছর অন্তর এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০২০ সালের মহড়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের বিমানবাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছে। এবারের প্রদর্শনীর মূল বিষয়ই ছিল, বিদেশি প্রযুক্তিকে দেশীয় উদ্ভাবন দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা। দীর্ঘদিন ধরেই চীন সবক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার যে নীতি গ্রহণ করে আসছে, সেই নীতির অংশ হিসেবেই বিমান খাতে বিপুল বিনিয়োগ করে দেশটি।
এ বছর প্রদর্শনীতে চীন জে-২০ নামে নিজেদের তৈরি একটি বিমান ইঞ্জিন সামনে এনেছে। এই ইঞ্জিনটি রাশিয়ার এএল-৩১ এফ ইঞ্জিনের মতো বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। পিএলএর মুখপাত্র শেন ঝিনকে গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর মধ্য দিয়ে চীন বিমানের ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা থেকে বের হয়ে এলো। অবশ্য পর্যবেক্ষকরা বলছেন, চীনের নিজের নির্মিত বিমান ইঞ্জিন অন্য দেশের ইঞ্জিনের মতো শক্তপোক্ত নয়। জে-২০ সিরিজের প্রধান প্রকৌশলী ওয়াং হাইতাও জানান, জে-২০ ইঞ্জিনের উন্নয়ন চলছে এবং ব্যাপক উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে।
নতুন ইঞ্জিনটি চলতে আগেরগুলোর তুলনায় কম ফুয়েল লাগে এবং দীর্ঘসময় ধরে চলতে পারে। ইঞ্জিনটি দিয়ে ভারী বিমানও চলবে।