আফগানিস্তানের দখল এখন সশস্ত্র সংগঠন তালেবানের হাতে। দলটি গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের কয়েক সপ্তাহের মাথায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে। সেই সরকার এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। একদিকে স্বীকৃতি প্রাপ্তির লড়াই, অন্যদিকে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গেও লড়তে হচ্ছে তাদের। কিন্তু তালেবানের যে অর্থনৈতিক নীতি তাতে দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য তেমন কোনো সুবিধা রাখা হয়নি। ফলে ৮০ শতাংশ বৈদেশিক সহায়তানির্ভর আফগানিস্তানে দরিদ্রদের এখন খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আফগানিস্তানের বাঘলান প্রদেশের বাস্তুচ্যুত এক নারী সম্প্রতি অর্থ সংকটে পড়ে তার অসুস্থ মেয়েকে বাঁচাতে দেড় বছর বয়সী শিশুকে বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে ওই নারী কাবুলের রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন। টোলো নিউজের সাংবাদিককে লাইলুমা নামের ওই মা জানান, তিনি কোনো উপায় দেখতে না পেয়ে ১৩ বছরের মেয়েকে অসুস্থতার হাত থেকে বাঁচাতে কোলের শিশুকে বিক্রি করে দিয়েছেন। গত বছর থেকে লাইলুমার স্বামীকে পাওয়া যাচ্ছে না। কোলের শিশুটিকে ৩০ হাজার আফগানিতে বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।
লাইলুমা বলেন, ‘কেউই চায় না তার সন্তানকে বিক্রি করতে। কিন্তু কোনো উপায় না পেয়ে আমি ত্রিশ হাজার আফগানিতে আমার এক সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছি।’ কাবুলের রাস্তায় তাঁবু খাটিয়ে লাইলুমার মতো আরও অনেক মা এখন বাস করছেন, যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ বলতে আর কিছু আছে বলে মনে করেন না। কুন্দুজ থেকে বাস্তুচ্যুত আরেক নারী মারিয়া। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলে এখানে সবকিছু ভিজে যায়। আমার সন্তানরা অসুস্থ হয়ে পড়ে আর সারারাত ঘুমাতে পারে না।’ তাকহার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া আরেক নারী আয়শা বলেন, ‘শরণার্থী মন্ত্রণালয়ের লোকজন এসে জরিপ করে গেছে। কিন্তু তারা কোনো সহায়তা দেয়নি আমাদের। এমনটা চলতে থাকলে আমরা না খেয়েই মারা যাব।’
সারা আফগানিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া বহু পরিবার এখন কাবুলে ভিড় করছে। এদের আবাসন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রশ্নে তালেবান থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পর্যন্ত মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে। জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করে বলছে,
আফগানিস্তান স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে সংকটে আছে দেশটির শিশুরা। জাতিসংঘের এমন সতর্কতার পরও কোনো পক্ষকেই বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে না।