শাহরুখপুত্র আরিয়ানকে গত দুই দিন দীর্ঘক্ষণ ধরে জেরা করেছে ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (এনসিবি)। সেই জেরায় এই তারকাপুত্র জানান, তারা বাবা এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে অনেক সময় তার দেখা পাওয়াটাই সম্ভব হয় না। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বাবার এই অতি ব্যস্ততাই কি ছেলের জন্য কাল হয়েছে। পারিবারিক এই বিচ্ছিন্নতার কারণেই কি আরিয়ান মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন?
ভারতের এক শীর্ষ স্থানীয় ইংরেজি পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের চার পাতার বয়ানে অনেক কিছুই বলেছেন আরিয়ান। সেই বয়ানে এই তারকাপুত্র বলেছেন, ‘আমার বাবা শাহরুখ খান অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন। এই মুহূর্তে একসঙ্গে তিনটি ছবির শুটিং করছেন তিনি। আর বাবা এতটাই ব্যস্ত যে অনেক সময় তার সঙ্গে দেখা করার জন্য ম্যানেজার পূজার কাছ থেকে আমাকেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়’।
প্রসঙ্গত, ২৩ বছর আগে আরিয়ানের জন্মের পর এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ে শাহরুখ রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে মাদকে আসক্ত হোক বা প্রেম করুক, চাই কি যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হোক। যা আমি আমার তারুণ্যে করতে পারিনি, সে সব কিছু যেন সে করতে পারে। আমি চাই, ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসুক মেয়েদের বাবাদের কাছ থেকে’।
আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে আদালতে বেশ কিছু প্রমাণ পেশ করেছে এনসিবি। এনসিবি আদালতকে জানিয়েছে যে আরিয়ানের মুঠোফোন থেকে বেশ কিছু আপত্তিকর ছবি আর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট তারা উদ্ধার করেছে। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে আর্থিক লেনদেনের উল্লেখ আছে। আর এই আর্থিক লেনদেনের চ্যাট থেকে এনসিবি জানতে পেরেছে, যুক্তরাজ্য আর দুবাইয়ে মাদক নিয়েছেন আরিয়ান।
এনসিবির হেফাজতে আরিয়ান, মুনমুন, আরবাজ ছাড়া আরও পাঁচ অভিযুক্ত আছেন। এনসিবি আদালতকে জানিয়েছে যে তাঁদের সবাইকে সামনাসামনি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৭ অক্টোবর পর্যন্ত আরিয়ানকে এনসিবির হেফাজতেই থাকতে হবে। মাদক-কাণ্ডের অন্য দুই অভিযুক্ত আরবাজ মার্চেন্ট আর মুনমুন ধামেচাকেও ৭ অক্টোবর পর্যন্ত হেফাজতে রাখা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২০ হাজার রুপি জরিমানাসহ কারাদণ্ড হতে পারে।