স্টেজে ব্যান্ড তারকা ও শিল্পীরা

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। নাটক, সিনেমার শ্যুটিংয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি স্টেজ শো-ও চালু হয়েছে। এরই মধ্যে বেশকিছু কনসার্টে অংশ নিয়েছেন রকস্টাররা। গত ১ অক্টোবর রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশনাল হলে কনসার্টে অংশ নেয় দেশের জনপ্রিয় কিছু ব্যান্ড। যাদের মধ্যে রয়েছে আর্টসেল, শিরোনামহীন, এভোয়েডরাফা, নেমিসিস, সাভাগ্রে, ইনকোরসহ বেশকিছু ব্যান্ড।

কনসার্টে অংশ নেওয়া শিরোনামহীন ব্যান্ডের কর্ণধার জিয়াউর রহমান জিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত দুই বছর আমরা প্রায় বেকারই ছিলাম বলা যায়। লাইভ পারফর্মেন্স আমাদের আয়ের প্রধানতম উৎস। ফলে আমরা কনসার্ট সবসময় করতে চাই। যেটা আগে করেছি- ইনডোর কনসার্ট বা আউটডোর কনসার্ট এগুলো আবারও করতে চাই। কারণ শুধু শিল্পীরা নন, একটা দলের সঙ্গে আরও অনেক মানুষের নির্ভরতা থাকে। যন্ত্রশিল্পীরাও আছেন। ফলে কনসার্ট করা ছাড়া টিকে থাকা মুশকিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমরা ঢাকার বাইরে রংপুর মেডিকেল কলেজে একটা কনসার্টে অংশ নিয়েছিলাম। ওদের অডিটরিয়ামে হয়েছিল। এরপর ১ অক্টোবর ঢাকার বসুন্ধরা কনভেনশনে একটা কনসার্ট করেছি। এই কনসার্টটা অর্গানাইজড কনসার্ট বলতে যেটা বোঝায় সেটা হয়েছিল। টিকিট কেটে দর্শকরা কনসার্ট উপভোগ করেছেন।’

স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কনসার্টগুলোতে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অংশ নিতে দেখেছি। মানুষকেও সচেতন থেকে এসব কনসার্টে অংশ নিতে হবে। আর এখনো ওপেন এয়ার কনসার্ট বলতে যেটা বোঝায় বড় পরিসরে খোলা মাঠের যে কনসার্ট সেটা এখনো শুরু হয়নি। তবে কিছু প্রস্তাব আমাদের কাছে আছে, সবকিছু মিলে গেলে হয়তো সেগুলোতে আমরা অ্যাটেন্ড করব।’

নগর বাউল জেমস এখনো কনসার্ট করা শুরু করেননি বলে জানালেন তার মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবীন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উনি এখনো কনসার্ট করা শুরু করেননি। তবে কনসার্টে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আশা করছি নভেম্বরে তিনি কনসার্টে অংশ নেবেন।’

রক ব্যান্ড এভোয়েডরাফাও ফিরেছে কনসার্টে। রায়েফ আল হাসান রাফা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কনসার্ট অলরেডি শুরু হয়েছে। গত দুই বছর কনসার্ট করতে পারিনি। আমি খুব খুশি যে দুই বছর পর আমরা আবার কনসার্ট করতে পারছি। তবে কিছুটা চিন্তাও হয় যে মানুষ যদি নিয়ম না মেনে কনসার্টে আসে সেক্ষেত্রে আবার করোনা বাড়তে পারে। তো সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গে আমিও সতর্ক থাকছি। আর এর আগে যে কনসার্ট করেছি, সেখানে যা দেখেছি তাতে নিয়ম মেনেই মানুষ কনসার্টে ঢুকছে দেখলাম। এই সতর্কতা মেনে যদি দর্শকরা আসতে থাকে তাহলে সেটা আমাদের জন্য আশার খবর হবে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আমাদের গত দুই বছরের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারব। আশা করব, সতর্কতা মেনে বেশি বেশি করে কনসার্ট হোক।’

‘আভাষ’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট তানজির তুহিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আবারও কনসার্টে অংশ নেওয়ার জন্য নিজেদের আবারও প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি। ইনডোর অডিটরিয়ামে কিছু কনসার্ট হলেও ওপেন এয়ার কনসার্ট এখনো হচ্ছে না। এর কারণ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো বন্ধ। এগুলো খুললে আবারও ওপেন এয়ার কনসার্ট শুরু হবে। আশা করছি নভেম্বর নাগাদ সব আবার চালু হবে। তখন নিয়মিত কনসার্টে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে আছে।’

চিরকুট ব্যান্ডের সুমী বলেন, ‘লকডাউনসহ নানা কারণে এতদিন আমরা কনসার্টে অংশ নিতে পারিনি। তবে এখন আবার সবকিছু খুলে দেওয়ায় আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। আমরা এখনো কনসার্টে অংশ নিইনি, বেশকিছু প্রস্তাব এলেও আমরা করিনি। অক্টোবর শেষের বা নভেম্বরে আমরা কনসার্ট শুরু করতে পারব।’

সুমি আরও বলেন, ‘করোনার কারণে স্টেজ শো বন্ধ থাকায় অনেক ব্যান্ডেরই কলাকুশলীরা সমস্যায় ছিলেন। তবে আমাদের ব্যান্ডের সদস্যদের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। সবাই ভালোভাবেই সার্ভাইব করেছে। এখন আবার শুরু হচ্ছে। আশা করছি, সব আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কর্ণিয়া জানালেন, তিনি ইতিমধ্যেই ওপেন এয়ার কনসার্টসহ ইনডোর কনসার্টে অংশ নিয়েছেন। কর্ণিয়া বলেন, ‘যতটুকু দেখেছি, লোকজন মাস্ক পরে সতর্কতা মেনেই কনসার্টে অংশ নিচ্ছে। তেমন কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি।’

এদিকে ইতিমধ্যেই সামিনা চৌধুরী, আঁখি আলমগীর, পুতুল, লিজা, পূজাসহ আরও অনেকেই স্টেজ পারফর্ম করা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।