তালেবানকে রাশিয়ায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন পুতিন

আফগানিস্তানের নতুন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেল খোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়া তালেবান প্রতিনিধিদের মস্কোতে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত জামির কাবুলভ এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় এশিয়ান বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালনকারী জামির কাবুলভ বলেন, তালেবান কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে ওই বৈঠকের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং কে কে এতে যোগ দিতে পারেন তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। মস্কো আগামী ২০ অক্টোবর আফগানিস্তান নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সংলাপের আয়োজন করতে যাচ্ছে। 

তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে রাশিয়ায় নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও, শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টায় এই বছরের মার্চেও মস্কোতে এক আলোচনায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রতিনিধিদের।

ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং পাকিস্তানও অংশ নেয়। সংলাপ শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে আফগানিস্তানের সকল পক্ষকে সহিংসতা ছেড়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। 

এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সেনা প্রত্যাহারের পর ইসলামপন্থী গোষ্ঠীটি প্রায় পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

তালেবানরা কাবুল দখলের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জুলাই মাসে রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা তার দেশের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তালেবানের আলোচনার পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশে তালেবানদের আন্দোলন নিষিদ্ধ। এবং মস্কো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব উপায়ে লড়াই করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

জাখারোভ বলেন, ‘তালেবান আন্দোলন আন্ত-আফগান সংলাপের অংশ। এটিই সেই সংলাপ যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সকল দেশকে সহজ করার আহ্বান জানিয়েছে’।

তিনি বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়া সেই প্রক্রিয়াকে জয়ী করবে।

আগস্ট মাসে মার্কিন সমর্থিত সরকারের পতনের পর যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতার কোনো আশা শেষ হয়ে যায়নি।

ক্ষমতা দখলের পর তালেবান নেতারা আফগানিস্তানকে একটি ইসলামি আমিরাত হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে, কোন বিদেশী দেশ এখনো এই গ্রুপটিকে আফগানিস্তানের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

কাবুলভ আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, রাশিয়া তালেবানকে স্বীকৃতি দিতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘আমাদের কোনও তাড়াহুড়া নেই’ এবং এই ধরনের পদক্ষেপ ‘তালেবানের নতুন শাসনব্যবস্থার আচরণ’ এর উপর নির্ভর করবে।

আগস্ট মাসে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা তুলনা করি যে সহকর্মী এবং অংশীদার হিসাবে আলোচনা করা কতটা সহজ, তাহলে তালেবানরা আমার কাছে আগের আফগান পুতুল সরকারের চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার জন্য অনেক বেশি প্রস্তুত বলে মনে হয়েছে’।

প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে ‘মধ্য এশিয়’ নিয়ে চিন্তিত রাশিয়া। দেশটির ধারণা, তালেবানের জয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো উৎসাহ পাবে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হওয়া তাজিকিস্তান, তুর্কিমিনিস্তান, গিরকিজস্তানকে রাশিয়া প্রতিরক্ষামূলক বাফার রাষ্ট্র হিসেবে মনে কর।

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পরপরই রাশিয়া তাজিকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। তাজিকিস্তানে রাশিয়ার একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাখমোনের সঙ্গে সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। দুই নেতা আফগানিস্তানের সর্বাশেষ অবস্থাসহ নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।