হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকার শ্বশুরবাড়িতে মাহমুদা নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহতের ভাই জানিয়েছেন, তার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি চিৎকার দিয়ে ওঠেন, পরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক।
মাহমুদা সোমবার দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দেন। তিন বছর বয়সী তার আরেক পুত্রসন্তান রয়েছে।
জানা গেছে, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ভাদিকারা গ্রামের আবুল বাছির মিয়ার মেয়ে মাহমুদা আক্তার। চার বছর আগে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মাকসুদ মিয়ার (৩০) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মাহমুদার বাবার পরিবারের দাবি যৌতুক নিয়ে মাহমুদাকে নির্যাতন করতেন স্বামীসহ তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমতাবস্থায় মাহমুদা বাবার বাড়িতে চলে যান। এ নিয়ে সালিস বৈঠকের পর সম্প্রতি শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন তিনি।
আরও জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় মাহমুদা তার ভাই ফয়সল মিয়াকে ফোন করেন। ভাই-বোনের কথা বলা অবস্থায় হঠাৎ মাহমুদা চিৎকার করে ফোন ছেড়ে দেন। পরে ফয়সল পুনরায় বোনকে ফোন দিলে তা বন্ধ পান। এ নিয়ে পুরো পরিবারে আতঙ্ক তৈরি হয়। এর ঘণ্টাখানেক পরেই এক আত্মীয় মুঠোফোনে জানান, মাহমুদা আর বেঁচে নেই। তিনি শ্বশুরবাড়িতে মারা গেছেন।
খবর পেয়ে রাতেই মাহমুদার বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে আসেন হবিগঞ্জ শহরে মাহমুদার শ্বশুরবাড়িতে। তারা জানতে পারেন, তার লাশ হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।
নিহতের ভাই ফয়সল মিয়া দাবি করেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় তার বোন তাকে মুঠোফোনে জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজন মাহমুদাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করছেন। তিনি তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন ভাইয়ের কাছে। তার সঙ্গে কথা বলা অবস্থায় হঠাৎ চিৎকার করেন মাহমুদা। সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ কেটে যায়। তিনি দাবি করেন, তার বোনকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছেন।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি এসআই নাজমুল হক কামাল জানান, লাশের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে কী করে মাহমুদার মৃত্যু ঘটেছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে। এ পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
তিনি একজন ডাক্তারের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, সোমবার মাহমুদা বাচ্চা প্রসবের পর উচ্চ রক্ত চাপে ভুগছিলেন। নিয়মানুযায়ী তাকে ৪০ ঘণ্টা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখার কথা। কিন্তু মাহমুদার স্বামীর বাড়ির লোকজন অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যান।