কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে জলমহালের দখল নিয়ে প্রতি বছরই ঘটছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, হচ্ছে খুন-খারাবি। বিভিন্ন সময়ে এসব সংর্ঘষে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
জেলার তাড়াইল উপজেলাতেই একাধিক গ্রুপের বিরোধে গত ১২ বছরে সাতটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত রবিবার সকালে নিহত হয়েছেন উপজেলার দিগদাইড় (পূর্বপাড়া) গ্রামের সাদত আলীর বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে জুনায়েদ (২৭)।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, সাজিয়া, ডুবাইল ও আমাইল এ তিনটি বিলের অবস্থান তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নে। এসব বিলের দখল নিয়ে স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে কয়েকটি গ্রুপ। যাদের মধ্যে প্রায়ই ঘটে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ‘বড় দল’ ও ‘ছোট দল’ নামে দুটি গ্রুপে বিভক্ত বিলকেন্দ্রিক লোকজন।
সূত্র আরও জানায়, গত ১২ বছরে এ তিন বিল নিয়ে সংঘর্ষে খুন হয়েছেন জজ মিয়া, ইদিল, সাহেদ, শিশু জামাল, শফিকুল, রাশিদ ও জুনায়েদ। গত ৩ অক্টোবর সকালে খুন হন জুনায়েদ। সাজিয়া বিল জলমহালের পাহারাদার জুনায়েদ প্রতিদিনের মতো বিলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একটি পক্ষ তাকে পাহারা দেওয়া অবস্থায় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে খুন করে। পরে সকালের দিকে সাজিয়া বিলের পাড়ে তার লাশ পাওয়া যায়। জুনায়েদের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা ও পুলিশের ভয়ে এলাকার বেশিরভাগ পুরুষই এখন গ্রামছাড়া। নিহত জুনায়েদ দিগদাইড় গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আসক আলী মেম্বার ও প্রবাসী মতি মিয়া পক্ষের লোক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নিহত জুনায়েদের বাবা সাদত আলী বলেন, আমার ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি ৫-৭ বছর হয়ে গেছে। তার কোনো সন্তানাদি নেই। সে বাকপ্রতিবন্ধী ছিল। তার উপার্জনেই আমাদের সংসার চলত। তাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছি। আমরা এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের অবসান চাই।
দিগদাইড় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাপ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিলকেন্দ্রিক সবাই এক সময়ে ঐক্যবদ্ধ ছিল। পরে স্বার্থ ও ভাগাভাগি নিয়ে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিল নিয়ে বড় দল ও ছোট দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারেই একের পর এক খুন হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এখানে কারও নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, সাধারণ মানুষকে টিকে থাকতে হলে পক্ষ নিতেই হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
তাড়াইল থানার ওসি জয়নাল আবেদীন সরকার বলেন, এখানে নতুন যোগদান করেছি। এসেই শুনতে পেয়েছি অনেক আগে থেকেই বিল দখল নিয়ে এলাকায় দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছে। এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি।