দেশে প্রথম বিচি ছাড়া পেয়ারার চাষ শেরপুরে

সিডলেস বা বিচি ছাড়া লেবুর পর এবার বিচি ছাড়া পেয়ারা চাষে সফল হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে দেশে প্রথমবারের মতো কৃষক পর্যায়ে বিচি ছাড়া পেয়ারা চাষের পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিক বাগান করা হয়েছে শেরপুরে। জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের কালাকুড়া গ্রামের আল আমিন নামে এক যুবক তার ২০ শতক জমিতে ৮০টি চারা রোপণ করে এক বছরের মধ্যেই সফল হয়েছেন।

জানা যায়, শেরপুরের ওই গ্রামের মাটি ও স্থানীয় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ২০২০ সালে বারিতে কর্মরত শেরপুরের বাসিন্দা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম তার নিজ এলাকায় এই পেয়ারার পরীক্ষামূলক বাগান তৈরির কথা চিন্তা করেন। পরে বারির তত্ত্বাবধানে স্থানীয় চাষি আল আমিনের জমিতে ৮০টি চারা দিয়ে শুরু করেন। ছয় মাসের মধ্যে ওই সব গাছে প্রচুর ফুল এলে চাষি ও বারির কর্মকর্তাদের খুশির অন্ত থাকে না। পরে এ বাগানকে তারা মাতৃবাগান হিসেবে ঘোষণা করেন। অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে যেন বারি এবং কৃষি উদ্যোক্তারা এখান থেকে কলমের মাধ্যমে চারা সরবরাহ করে বীজমুক্ত পেয়ারার চাষ ছড়িয়ে দিতে পারেন দেশজুড়ে।

বারির ফলতত্ত্ব বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৭ সালে প্রথমে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ উদ্ভাবন করে বীজমুক্ত পেয়ারার জাত বারি পেয়ারা-৪। পরে চাষি পর্যায়ে বাগান করার চিন্তা আসে আমাদের।’

এই পেয়ারার গুণাগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পেয়ারাটি দেশি পেয়ারার চেয়ে সুস্বাদু ও উচ্চফলনশীল। হেক্টরপ্রতি এই জাতের পেয়ারার ফলন হবে ৩২ টন। বীজমুক্ত পেয়ারা দেখতে লম্বাটে এবং পুরোটাই খাওয়ার উপযুক্ত। অমৌসুমি ফল হিসেবে দেশের বাজারে সব সময় এ পেয়ারা পাওয়া যাবে।’

চাষি আল আমিন জানান, বারির পরামর্শ নিয়ে প্রথমে তিনি ড্রাগন ও মাল্টা বাগানের কাজ শুরু করেন। পরে মনিরুল ইসলামের পরামর্শে বিচি ছাড়া পেয়ারার বাগান তৈরি করেন।  আগামী বছর তিনি এ বাগান থেকে কলম করে বিক্রি করার চিন্তা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই পেয়ারা শুধু বিচি ছাড়াই নয়, গাছগুলো পোকামাকড়সহিষ্ণু। ফলে কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না।’