ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতা আত্মসাৎ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ২০ নম্বর কাইতলা ইউনিয়ন পরিষদের এক ইউপি সদস্যদের ভাতিজার বিরুদ্ধে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার দুপুরে বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভিড় করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা ভাতার টাকা ফেরত পেতে এবং বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করেন।

সাতজন ভুক্তভোগী সম্প্রতি নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, কাইতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাছির মিয়ার ভাতিজা মো. সাদ্দাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে এবং নানা রকম কৌশলে তাদের সরলতার সুযোগে সিম ও পিন নম্বর সংগ্রহ করে তাদের টাকা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা তদন্ত করতে গত বুধবার সরেজমিন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তদন্তকাজ শেষে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়া হবে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, দোষী প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বৃদ্ধা ছুফিয়া খাতুন বলেন, ‘সাদ্দাম আমার বয়স্ক ভাতার কার্ড ও নম্বর নিয়ে যাওয়ার পর থেকে টাকা আর পাই না।’

প্রতিবন্ধী সাইদুলের মা বলেন, ‘সাদ্দাম আমার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে কার্ড করে দিলে প্রথমে দুইবার টাকা পাই। পরে নগদ করায় টাকা সাদ্দামের নম্বরে চলে যায়।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদ্দাম মিয়া বলেন, ‘অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কারও ভাতার টাকা আত্মসাৎ করিনি।’

এ বিষয়ে ২০ নম্বর কাইতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এসেছিল। যেহেতু এটি সমাজসেবার অধীনে। তাদের আমি সমাজসেবা কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল সিদ্দিক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। তদন্তের জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।’