চার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ জানাতে চিঠি

অস্বাভাবিক অফার দিয়ে অনলাইন কেনাকাটায় গ্রাহকদের প্রতারিত করার অভিযোগে আরো চার প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

এই সঙ্গে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে দায়েরের পরিমাণ এবং উক্ত দায় পরিশোধের লক্ষ্যে কোম্পানির চলতি সম্পদের পরিমাণ ও পরিকল্পনা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল। 

এ চার প্রতিষ্ঠান হলো আনন্দের বাজার, অল-শপার, দালাল প্লাস ও থলে। 

জানা গেছে, এ চার প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে গ্রাহকের কয়েক শ কোটি টাকা আটকা পড়েছে। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেরই মালিকপক্ষ লাপাত্তা, অফিস বন্ধ রয়েছে। কিন্তু অনলাইনে তাদের কার্যক্রম চলছে। ব্যাপকভাবে ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করে অগ্রিম অর্থ নিয়ে পণ্য ডেলিভারি না করা প্রতারক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

চিঠিতে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে দায়ের পরিমাণ এবং উক্ত দায় পরিশোধের লক্ষ্যে কোম্পানির চলতি সম্পদের পরিমাণ ও পরিকল্পনা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য আগামী ১৭ অক্টোর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের উপসচিব মুহাম্মদ সাঈদ আলী স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বলা হয়েছে, উপরোক্ত চার প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল কমার্সের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে অস্বাভাবিক অফার দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটে অস্থিরতা তৈরি করছে। ফলে গ্রাহকরা বিভ্রান্ত হয়ে অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হচ্ছেন। এমতাবস্থায়, আগামী ১৭ অক্টোবরের মধ্যে বর্ণিত অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যাদি এবং গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে দায়ের পরিমাণ এবং উক্ত দায় পরিশোধের লক্ষ্যে কোম্পানির চলতি সম্পদের পরিমাণ ও পরিকল্পনা জানানোর জন্য অনুরোধ করা গেল। 

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) সেলের মহাপরিচালক ও ডিজিটাল ই-কমার্স সেলের প্রধান হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনলাইনে বাণিজ্যের নামে চটকদার অফার দিয়ে প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, আনন্দের বাজার, অল-শপার, দালাল প্লাস ও থলে নামক ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চারটিকে কারণ দর্শানোর নোটিসসহ সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ জানানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। নোটিশের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। 

উল্লেখ্য, আনন্দের বাজার, অল-শপার, দালাল প্লাস, থলে নামক ৪টি প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে গ্রাহকের কয়েক শ কোটি টাকা আটকা পড়েছে। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেরই মালিকপক্ষ লাপাত্তা, অফিস বন্ধ। কিন্তু অনলাইনে তাদের কার্যক্রম চলছে।

আনন্দের বাজার, অল-শপার, দালাল প্লাস, থলে মোটরবাইক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। অগ্রিম দাম পরিশোধের পর ২০ থেকে ৪০ কর্মদিবসের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এর আগে একই ধরনের অফার দিয়ে পণ্য সরবরাহ না করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, কিউকম, নিরাপদ, শ্রেষ্ঠ নামের কথিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।