নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ সহচর পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদ উল্লাহ ওরফে হামিদের (২৮) নেতৃত্বে এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত সাংবাদিক নাসির উদ্দিন (৪৩) দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন ও আঞ্চলিক দৈনিক নোয়াখালী প্রতিদিনের কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বসুরহাট পৌরসভা ভবনের দক্ষিণ গেটে মোশারফ হোসেন ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে সাংবাদিক নাসির উদ্দিনকে পেটানোর ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
সাংবাদিক নাসির জানান, রবিবার সন্ধ্যার দিকে বসুরহাট পৌরসভার দক্ষিণ গেটের মোশারফ হোসেন ডায়াবেটিক হাসপাতালের সামনে একটি চা দোকানে তিনি বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় দলবল নিয়ে সেখানে যুবলীগ নেতা হামিদ উপস্থিত হয় এবং তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে হামিদের নেতৃত্বে ১০-১২জন আমার ওপর হামলা চালায়।
তিনি জানান, হামিদের নেতৃত্বে তার সাঙ্গপাঙ্গরা রিকশার চেইন, ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে আমাকে মাথায়, পায়ে, পিঠে সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে।
সাংবাদিক নাসির বলেন, এ বিষয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা ও তার ছেলে আমাকে বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিনি থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেননি বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন বলেও জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বসুরহাট পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদ উল্লাহ হামিদ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমি পারিবারিক কাজে ব্যস্ত ছিলাম। শুনেছি তিনি মোটরবাইক অ্যাক্সিডেন্ট করেছেন। আমি যেহেতু মেয়র মহোদয়ের সাথে আছি তাই প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি শুনেছি লোকমুখে, তবে এ ঘটনা আমাদের কেউ জানায়নি। লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।