কোটিপতি গ্রাহক লাখ ছুঁয়েছে

দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাব সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংক খাতে ৫ হাজার ৬৪৬টি কোটিপতি হিসাব যোগ হয়েছে। ফলে জুন শেষে দেশে কোটিপতি হিসাব ৯৯ হাজার ৯১৮টিতে উন্নীত হয়। যেখানে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোটিপতি হিসাব বেড়েছিল ৩৮২টি।

অর্থাৎ ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৬ হাজার ২৮টি। যার ৯৪ শতাংশই বেড়েছে দ্বিতীয় প্রান্তিকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে ব্যাংকে কোটিপতি হিসাব ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। মার্চ শেষে কোটিপতি হিসাব বেড়ে ৯৪ হাজার ২৭২টিতে উন্নীত হয়।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার পরও গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশের ব্যাংক খাতে ১০ হাজার ৫১টি নতুন কোটিপতি ব্যাংক হিসাব যোগ হয়। কোটিপতি হিসাবগুলোতে আমানত যোগ হয় ৬৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোটিপতিদের আমানত বেড়েছে ৩৯ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। প্রাপ্ত তথ্য অনযায়ী, গত জুন শেষে কোটিপতি হিসাবগুলোতে জমা ছিল মোট ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। গত জানুয়ারিতে কোটিপতি হিসাবগুলোতে আমানত ছিল ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা।

কোটিপতি হিসাব সংখ্যা ও আমানতের পরিমাণ বাড়তে থাকায় মোট আমানতে কোটিপতিদের অবদানও বাড়ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে মোট আমানতে কোটিপতিদের অবদান ছিল ৪৪ দশমিক ০৮ শতাংশ। জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে খোলা সব ধরনের হিসাবগুলোতে জমা ছিল ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোতে ১২ কোটি ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। এই হিসাবগুলোর শূন্য দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ হিসাব কোটিপতিদের।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকা জমা থাকা হিসাব ছিল ৮৩ হাজার ৮৩৯টি। হিসাবগুলোতে জমা ছিল ৫ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। যা ছিল ওই সময়ের মোট আমানতের ৪৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, চলতি ২০২১ সালের জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে ১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা থাকা হিসাব ছিল ৭৮,৬৯৪টি। পাঁচ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকা ব্যাংক হিসাব ছিল ১১ হাজার ১৩টি। দশ কোটি টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা জমা থাকা ব্যাংক হিসাব ছিল ৩ হাজার ৫৯৯টি। পনেরো কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা জমা থাকা ব্যাংক হিসাব ছিল ১,৭৩২টি। ২০ কোটি থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত জমা থাকা ব্যাংক হিসাব ছিল ১,১৮৫টি।

এছাড়া ৮৩৯টি ব্যাংক হিসাবে ২৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা করে জমা ছিল। ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা ছিল ৪২৫টি ব্যাংক হিসাবে। ৩১৪টি ব্যাংক হিসাবে ৩৫ কোটি থেকে ৪০ কোটি টাকা করে জমা ছিল। ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত জমা থাকা হিসাব ছিল ৫৯০টি। ৫০ কোটি বা এর বেশি টাকা জমা থাকা ব্যাংক হিসাব ছিল ১,৫২৭টি।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা মহামারীর সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। চলতি বছর মার্চের শেষ দিকে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ দেখা দেয়। এই সময়ে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ভয়াবহভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে পড়লে সরকার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ হাতে নেয়। এ বছর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রণোদনা বাস্তবায়ন চলছে। বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরছে।

জানা যায়, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৫ জন, যা ১৯৭৫ সালে ৪৭ জনে উন্নীত হয়। দেশে কোটিপতিদের সংখ্যা ১৯৮০ সালে ছিল ৯৮ জন, ১৯৯০ সালে ৯৪৩ জন, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২ জন, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ জন এবং ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩ জন ছিল।