জন্ম থেকেই দুটি হাত অচল। কিন্তু মনের প্রবল ইচ্ছাশক্তি তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে চলেছেন অদম্য ফেরদৌস আলম ফিরোজ। মুখ দিয়ে লিখেই ২০১৩ সালে পাস করেন এসএসসি। ২০১৫ সালে পাস করেন এইচএসসি। আর ২০১৯ সালে পাস করেন অনার্স। এখন পড়ছেন মাস্টার্সে।
ফেরদৌস আলম ফিরোজের বাড়ি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ধরলা নদীবেষ্টিত কাউয়ামারী গ্রামে। বাবা শাহাব উদ্দিন পেশায় একজন কৃষক। মা ফিরোজা বেগম গৃহিণী। ৫ বিঘা আবাদি জমির ওপর নির্ভর করেই চলছে তাদের সংসারে। চার ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ফিরোজ। বাকি তিন ভাইও পড়ছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
ফিরোজের বাবা শাহাব উদ্দিন বলেন, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পা দিয়ে লিখে পড়াশুনা করার পর মুখ দিয়ে লেখা শুরু করে ফিরোজ। মুখে কলম আটকিয়ে অচল হাত দিয়ে কোনোরকমে ব্যালেন্স করে লিখতে হয় তাকে।
ফিরোজের মা ফিরোজা বেগম বলেন, খাওয়া কিংবা গোসল কোনোটাই সে একা করতে পারে না। আমিই সব করে দিচ্ছি। সংসারের কাজের ফাঁকে ফিরোজকে সময় দিতে হয়।’ পাটগ্রাম আদর্শ কলেজের প্রভাষক ফজলুল হক বলেন, ‘ফিরোজ প্রতিবন্ধী হলেও অসম্ভব মেধাবী শিক্ষার্থী।’ ফিরোজ বলেন, মুখ দিয়ে লেখার কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তার চাকরির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই তিনি একটি সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করবেন ।