শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ থেকে শুরু হলো। আজ মহাসপ্তমী। গতকাল সোমবার ষষ্ঠীতে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে বেলগাছতলে দেবীর আবাহন, সংকল্প সহযোগে ‘ত্রিণয়নী’ দুর্গা দেবীর পূজা-অর্চনা আমন্ত্রণ ও সন্ধ্যায় অধিবাস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের ম-পগুলোতে ঢাকের বোল, চন্ডী ও মন্ত্র পাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে। ইতিমধ্যে বাহারি সাজে সাজানো হয়েছে পূজামন্ডপগুলো।
আজ মহাসপ্তমীর দিনে ভোরে নবপত্রিকা প্রবেশ ও ঢাক-ঢোল-কাঁসর বাজিয়ে দেবী দুর্গার তিথিবিহিত পূজা শেষে সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। শাস্ত্রমতে, মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচার (ষোলো উপাদান) দিয়ে দেবীকে বরণ ও পূজা-অর্চনা হবে। আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য ও চন্দন দিয়ে পূজা করা হবে দেবীকে। এরপর কৃপালাভের আশায় দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন ভক্তরা। পর্যায়ক্রমে আগামীকাল বুধবার মহাঅষ্টমী, বৃহস্পতিবার মহানবমী ও শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, এবার দেশজুড়ে ৩২ হাজারের কিছু বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী মন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। ঢাকায় পূজা হচ্ছে ২৩৮টি মন্ডপে। গেল বছরের তুলনায় পূজা বেড়েছে ১ হাজার ৯০০। রাজধানীতে জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরী, রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ফার্মগেটের খামারবাড়ী ও গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজামন্ডপে এবার মহাসমারোহে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যবিধি মানতে নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা। এজন্য মন্ডপে আগতদের মাস্ক পরতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সতর্কতা হিসেবে এবারও ব্যাপক জনসমাগম হয় এমন আয়োজনে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি বিজয়া দশমীর আকর্ষণ শোভাযাত্রা হচ্ছে না।
ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গেলবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির কারণে দর্শনার্থী ছিল কম। তবে এবার যেহেতু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে তাই দর্শনার্থী বাড়বে বলে আশা করছি। নিরাপত্তাও জোরদার করাসহ সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’