মহাসমারোহে মঙ্গলবার উদ্যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। বুধবার মহাষ্টমী। তবে, করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গেলবারের মতো এবারও রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে মহাষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
মহাষ্টমীতে মঙ্গলবার সকালে দুর্গা দেবীর মহাষ্টমী বিহিত পূজা প্রশস্তা, ব্রতোপবাস ও পুষ্পাঞ্জলি হচ্ছে। মহাষ্টমী শেষে বৃহস্পতিবার মহানবমী ও শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্যে দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হবে।
এদিকে মঙ্গলবার মহাসপ্তমীতে প্রভাতে নবপত্রিকা প্রবেশ ও ঢাক-ঢোল কাঁসর বাজিয়ে দেবী দুর্গার সপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শাস্ত্রের বিধানমতে, মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ষোলো উপাদান দিয়ে দেবী দুর্গাকে পূজার্চ্চনা করা হয়। প্রত্যুষে ত্রিনয়নী দেবীর চক্ষুদান করা হয়। একই সঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য ও চন্দন দিয়ে পূজা করা হয়। পূজার্চ্চনা শেষে দেবীর কৃপালাভের আশায় তার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা।
মঙ্গলবার মহাসপ্তমীতে সকাল থেকে রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে মানুষের ঢল নামে। বুধবার মহাষ্টমীতে দর্শনার্থী আরও বাড়বে বলে মনে করেন আয়োজকেরা। মহাসপ্তমীর দিনে জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
ঢাকা মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির যদিও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে কিন্তু সতর্কতা হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে এবার কুমারী পূজা হচ্ছে না।’
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা মহামারি পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এবার ব্যাপক জনসমাগম হয় এমন অনুষ্ঠান এবারও হচ্ছে না। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।’