সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনায় ৩ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

নোয়াখালী বেগমগঞ্জের খানপুরে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে সফর আলী মাস্টারের বাড়িতে মধ্যযুগীয় কায়দায় ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সোমবার দিনগত রাতে ৩ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে এ ঘটনায় বেলায়েত হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১৯ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরও ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার।

গ্রেপ্তাররা হলেন, বেগমগঞ্জের হাজীপুরের আবিদুল হাসান বাদল (৫০), গয়েছপুর গ্রামের মো. সেলিম (৫০) ও হাজীপুর গ্রামের নুর হোসেন (৩৪)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাজীপুরের সফি উল্যার ছেলে বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে তার ভাড়াটিয়া প্রায় অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী ওই বাড়িতে হামলা চালিয়ে ৫টি বসতঘর, গরু ও মুরগির খামার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা আতঙ্ক ছড়াতে খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, বিভিন্ন আসবাবপত্র, গরু, ছাগল লুট করে নিয়ে যায়।

লুটপাটকারীরা এখনো হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

মামলার বাদী পারভিন আক্তার বলেন, ঘটনার দিন সকালে বেলায়েতের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক সন্ত্রাসী দেশি ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল নিয়ে বাড়িতে হামলা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে এবং ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমাদের ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর ২টি পিকআপ, ৫টি সিএনজিযোগে আমাদের বাড়ির ৫টি বসতভিটা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ, বিভিন্ন আসবাবপত্র, গরু, ছাগল, কবুতর লুট করে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বসত ঘরসহ দেবর ও ভাশুরদের বসতঘর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। এ সময় তারা বাড়ির ব্যবহৃত টিউবওয়েলও তুলে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন সকালে ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান আটক করলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

বাদীর ভাশুর নুরুল ইসলাম বলেন, এ সম্পত্তি আমাদের তিন পুরুষের। আমাদের বাপ দাদার আমল থেকেই বসবাস করছি। স্থানীয় রাজিয়া সুলতানা নামের এক নারী তাদের সম্পদ বলে দাবি করে আসছিল। এ বিষয়ে নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে আমাদের পক্ষে একাধিক রায় থাকা সত্ত্বেও বেলায়েতের নেতৃত্বে এ হামলা ও লুটপাট করা হয়।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাদের প্রায় ২৪ লাখ টাকার বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাটের করেছে। আমরা বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীন ও খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।

অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইসহাক মিয়া জানান, রাতে মামলার পর ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।