এক মাসে সবচেয়ে বড় পতন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ৭৩০০ পয়েন্ট অতিক্রম করার পর থেকেই পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে এমন অস্থিরতার কারণে টানা তিন দিন বেশিরভাগ শেয়ারের দর হ্রাসে সূচক কমেছে। এর মধ্যে গতকাল সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে, যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। গতকাল লেনদেন হওয়া ৬২ শতাংশ শেয়ারের দরপতনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৬৫ পয়েন্ট। এর আগে এর চেয়ে বেশি পতন হয়েছিল গত ১৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন ডিএসইর প্রধান এ সূচক কমেছিল ৭৭ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

মূলত মুনাফা তুলে নেওয়া, এক খাত থেকে অন্য খাতে তহবিল স্থানান্তর, কারসাজি তদন্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত কমিটি, সর্বোপরি ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ি আরোপের কারণে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। টানা তিন দিনের পতনে ডিএসইর লেনদেনও দুই হাজার কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। আর গতকাল প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৬৫ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট ৭২৪৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এর ফলে সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত তিন দিনে সূচক কমছে ১২০ পয়েন্ট। যদিও সপ্তাহটা শুরু হয়েছিল সূচকের বৃদ্ধি দিয়েই। গত রবিবার ডিএসইএক্স বেড়েছিল ২৫ পয়েন্ট।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক কমেছে। এ বাজারের প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৭৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২১ হাজার ১৮৩ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ৮০০০ পয়েন্ট পর্যন্ত মার্জিন ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ হার (গ্রাহকের ১০০ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ৮০ টাকা মার্জিন ঋণ) নির্ধারণের পর থেকে পুঁজিবাজার নতুন করে গতি ফিরে পায়। গত ১২ আগস্ট এসইসির এমন নির্দেশনার পর ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বা ১১৫৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। স্বল্প সময়ে সূচকের বড় ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানসহ অনেক ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী মূলধনী মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন। সাম্প্রতিক সময়ে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির মুনাফার বড় অংশই এসেছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে। এ ছাড়া অনেকেই অতিমূল্যায়িত সিকিউরিটিজ ছেড়ে তুলনামূলক কম দর রয়েছে এমন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ স্থানান্তর করছেন। এসব কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকাল ব্যাংক, বীমা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং খাদ্য ও অনুষঙ্গ খাত ছাড়া অন্য সব খাতের বাজার মূলধন কমেছে। গতকালের এক দিনের পতনে ডিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছে ৪ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। গতকালের পতনে বাজার মূলধনে সেরা প্রায় সব কোম্পানি দর হারিয়েছে। সূচক পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল লাফার্জহোলসিমের। এ কোম্পানির প্রায় ৬ শতাংশ দরপতনে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে প্রায় ১০ পয়েন্ট। এ ছাড়া আইসিবি, ওয়ালটন, পাওয়ার গ্রিড, স্কয়ার ফার্মা, রেনাটা, গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড পাওয়ার, বীকন ফার্মা ও বেক্সিমকো লিমিটেড সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩৮ পয়েন্ট সূচক কমাতে ভূমিকা রাখে।

এদিকে গতকাল বড় পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। তবে তা এখনো দুই হাজার কোটি টাকার নিচে রয়েছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট, যা আগের দিনের চেয়ে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৬টির, কমেছে ২৪১টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির দর।