চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন যুবক ও এক কিশোর নিহতের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতের ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের হুইপ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় হামলার শিকার কয়েকটি পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ দুষ্কৃতিকারীদের ধরতে তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে সাতজন আটক হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশের গুলিতে হাজীগঞ্জে চারজন মৃত্যুবরণ করেছে। এর মধ্যে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মৃত্যুবরণ করেছে।
ডিআইজি বলেন, পুলিশ জনগণের জানমাল ও আত্মরক্ষার্থে গুলি করেছে।
সংঘর্ষের ঘটনার পর হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় বুধবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, মৌলবাদী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার হীন চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই মৌলবাদী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্তের হীন চেষ্টা শুরু করে।
তিনি বলেন, কোনো ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি কখনো অন্য ধর্মের প্রতি আঘাত করতে পারেন না। সবসময় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিরাই অন্য ধর্মের প্রতি আঘাত করে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছিরউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী, হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আ স ম মাহবুব-উল আলম লিপন, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, কচুয়া পৌরসভার মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মো. মাইনুদ্দীন, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী প্রমুখ।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর আখড়া (ত্রিনয়নী), দি বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ মন্দির, পৌর মহাশ্মশান, জমিদার বাড়িসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় নিহত হন টাইলস মিস্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সুন্দরপুর বাগডাঙা এলাকার সামছুর ছেলে বাবলু (৩৫), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ড রান্ধুনী মুড়ার শুকু কমিশনার বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (১৮) ও একই ওয়ার্ডের সেকান্দর বেপারী বাড়ীর মো. ফজলুর ছেলে হৃদয় (১৪)। এ ছাড়া কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে মারা যান পৌরসভাধীন রান্ধুনী মুড়ার বাচ্চুর ছেলে শামীম (১৯)।