তালেবানকে একঘরে করা বড় ভুল হবে : কাতার

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল থানি বলেছেন, আফগানিস্তানকে এবং তার নতুন তালেবান শাসকদের একঘরে করলে তা ভালো কিছু হবে না। তার চেয়ে বরং তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তাদের মধ্যে থাকা মধ্যপন্থী কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

এই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ ১০টি ইউরোপীয় দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান নেতাদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই এই পরামর্শ দিচ্ছে কাতার।

আল থানি দোহায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমন বিশেষজ্ঞ শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কাতার বিশ্বাস করে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তালেবানদেরকে শাস্তি না দিয়ে বরং তাদেরকে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়া এবং উৎসাহিত করা। এর জন্য তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে এবং তাদের একঘরে করে ফেলা যাবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, ওয়াশিংটন এই সপ্তাহে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এবং মানবাধিকার রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে তাদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতেই তাদের মূল্যায়ন করা হবে।

প্রাইস মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তালেবানদের সঙ্গে ব্যবহারিক এবং বাস্তবিক ভিত্তিতে জড়িত হয়েছিলাম, যার ফোকাস ছিল নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমাদের উদ্বেগ। আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটকে নিয়ে তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই উদ্বিগ্ন। কিন্তু তালেবান আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

আফগানিস্তানের এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দারিদ্র্য, যা আরও গভীর হচ্ছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সাহায্যের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর আর্থিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্যের অভাবে পড়েছে। তালেবানরা অধিকাংশ শিক্ষক, ডাক্তার এবং প্রায় ৫০ লাখ সরকারি কর্মচারীকে বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে। খাদ্যের দাম বেড়েছে এবং দেশটি ওষুধ আমদানি করতেও হিমশিম খাচ্ছে, কারণ এটি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে অবরুদ্ধ।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন আফগান জনগণকে সাহায্য করার জন্য ১ বিলিয়ন ইউরোর (১১৪ কোটি ডলার) একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর আগে আরও ৩০০ মিলিয়ন ইউরো (৩৪৬ মিলিয়ন ডলার) দেওয়ার কথা বলেছিল ইইউ। আফগানিস্তানের একক বৃহত্তম দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র এই বছর ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।

দোহার গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে আল থানি বলেন, তালেবানকে বিচ্ছিন্ন রাখা কখনোই সমাধান হতে পারে না। যারাই আফগানিস্তান শাসন করুক না কেন তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে, তালেবানকে একঘরে করা একটি বড় ভুল হবে।