টিলা কেটে ২৫২ কোটি টাকার পাথর লুটের অভিযোগে দুদকের মামলা

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা কেটে প্রায় ২৫২ কোটি টাকার পাথর লুটের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ওই টিলার সাবেক ইজারাদার মোহাম্মদ আলীকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে উপপরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার মামলাটি করেছেন।

দুদক সিলেটের উপপরিচালক নূর ই আলম মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে ১০ শর্তে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত চিকাঢুরা মৌজার শাহ আরেফিন টিলার ৬১ একর এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য ২০০৫ সালের ৫ এপ্রিল এক বছরের জন্য মেসার্স বশির কোম্পানি ইজারা নেয়। কিন্তু ইজারাদার মেসার্স বশির কোম্পানির মালিক মোহাম্মদ আলী শর্ত ভঙ্গ করে পাথর উত্তোলন করেন।

আরও জানা যায়, তখন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখেন ওই ইজারাদার। পাথর উত্তোলনের জন্য ৬১ একর এলাকা ইজারা পেলেও তিনি ১৩৭.৫০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত সম্পূর্ণ টিলা থেকে পাথর উত্তোলন করতে থাকেন। পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালাও অনুসরণ করেননি ইজারাদার মোহাম্মদ আলী।      

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শাহ আরেফিন টিলার ৬১ একর জমি থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য ইজারা গ্রহণ করে ১৩৭.৫০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত পুরো টিলাকে ধ্বংস করে ২৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পাথর অবৈধ উপায়ে উত্তোলন করে সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন করেছেন আসামি মোহাম্মদ আলী।

উল্লেখ্য শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলনের সময় টিলার মাটি চাপা পড়ে ২০১৭ সালে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এরপর এই টিলায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। সিলেটের তখনকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলামকে প্রধান করে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে ইজারাদারের অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। ১৩৭ একর বিস্তৃত টিলায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কথা বলা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।

টিলা ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ৪৭ জনের নামও উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।