নয় মাসে লাফার্জহোলসিমের নিট মুনাফায় ১০৬% প্রবৃদ্ধি

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর দেশে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি নির্মাণশিল্পেও স্বাভাবিক গতি ফিরে এসেছে। এর ফলে নির্মাণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদিত পণ্য বিক্রিও বেড়েছে। চলতি বছরের ১১ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ থাকার পরও জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় সিমেন্ট উৎপাদনকারী বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড পণ্য বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সিমেন্ট বিক্রিতে যে সাফল্য এসেছে, তাতে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ১০৬ শতাংশ। চলতি তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) শেষে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের নিট মুনাফা হয়েছে ৩০৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। চলতি নয় মাস শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৬৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা।

আর্থিক প্রতিবেদন সম্পর্কে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সুরানার বলেন, “ব্যয় সংকোচন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ আরও একটি দারুণ প্রান্তিক অতিক্রম করেছে। আমরা যে নতুন নতুন পণ্যসমূহ বাজারে এনেছি সেগুলো অত্যন্ত সফল এবং আমাদের গ্রাহকবৃন্দ আমাদের পণ্য ও সমাধান বৈচিত্র্যে আস্থা রেখেছেন। গ্রাহকদের কাছে আমাদের পণ্য পৌঁছাতে আমাদের ডিজিটাল উদ্যোগগুলো এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।”

মূলত সিমেন্টের বাজারে নতুন পণ্য ও অ্যাগ্রিগেট ব্যবসার সংযোজন কোম্পানিটির বিক্রি থেকে আয় বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। চলতি বছর লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ‘হোলসিম ওয়াটার প্রটেক্ট’ নামে পানি প্রতিরোধী বিশেষ সিমেন্ট বাজারে এনেছে। নতুন দুই পণ্য সংযোজনের পাশাপাশি দেশে সিমেন্টের চাহিদা বাড়ায় চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে লাফার্জহোলসিমের পণ্য বিক্রি থেকে আয় বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। তবে অ্যাগ্রিগেট ব্যবসা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানির অ্যাগ্রিগেট ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। যদিও ব্যবসা সচল রাখতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। উচ্চ আদালত থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। 

কোম্পানিটির অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০২১ সালের সব প্রান্তিকেই সিমেন্ট বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হওয়ায় আকর্ষণীয় মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। চলতি জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৬৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পণ্য বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি ব্যয় সংকোচন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে লাফার্জহোলসিম। চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে কোম্পানির পণ্য উৎপাদনে যে ব্যয় হয়েছে তা মোট বিক্রির ৬৭ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৪ শতাংশ।

চলতি তৃতীয় প্রান্তিক শেষে মোট মুনাফা হয়েছে ৫১২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ শতাংশ বেশি। এ সময়ে প্রশাসনিক, বিক্রি ও মার্কেটিং ব্যয় শেষে লাফার্জহোলসিমের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৩৭৬ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৭৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। চলতি বছর কোম্পানিটির সুদ বাবদ ব্যয়ও কমেছে। চলতি তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কর পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ৩৭৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৭০ কোটি টাকা।