খানজাহান আলী (রহ.) মাজার

মেয়ে মৃত্যুর খবরে মিলল হারিয়ে যাওয়া ফজিলার সন্ধান

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৫৯ এএম

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির কুমিরের আক্রমণে নিহত ফাতেমার মা ফজিলা খাতুনকে তিন বছরের বেশি সময় পর ফিরে পেল পরিবার। সম্প্রতি ফাতেমার মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রচার হলে পরিবারের সদস্যরা তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজন ফজিলা খাতুনকে চিনতে পারেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরিয়ে নিতে পরিবারের সদস্যরা মাজার এলাকায় আসে। বিকেলে তাদের দেওয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে স্থানীয় প্রশাসন পরিবারের কাছে ফজিলাকে হস্তান্তর করে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ফজিলার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর হরিচাঁদ গ্রামে। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে ছোট মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ফজিলা খাতুন। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার। একসময় তাকে ফিরে পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছিল স্বজনরা।

জানা যায়, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফজিলা খাতুন শিশু কন্যা ফাতেমাকে নিয়ে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান (রহ.)-এর মাজার এলাকায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘ফাতেমার মা’ নামে। কেউই তার প্রকৃত পরিচয় জানতেন না।

গত সোমবার রাতে মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয় শিশু ফাতেমা। একদিন পর মঙ্গলবার ভোরে দিঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফাতেমার মৃত্যুর খবর ও ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বুধবার সেগুলো দেখে ফজিলার পরিবারের সদস্যরা ময়মনসিংহ থেকে রওনা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে মাজার এলাকায় পৌঁছে তারা ফজিলাকে খুঁজে পান। সন্তান হারানোর তিন দিন পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে খাবার খান তিনি। পরে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ফজিলার ভাই হারেজ আলী বলেন, ‘সকালে এসে দেখি আমার বোন মাজারের পূর্ব পাশে একটি ঘরের সঙ্গে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে। আমাকে দেখে উঠে বসে। পরে তাকে ফাতেমার কবরের কাছে নিয়ে যাই। তখন সে শুধু বলছিল, ‘আমার ফাতেমা আমার কাছে নাই। কুমির আমার বাচ্চাকে খাইছে। কুমির আমারেও খাইয়া ফেলুক।’

ফজিলার মা হাজেরা খাতুন বলেন, ‘আমার ছয় সন্তানের মধ্যে ফজিলা সবচেয়ে বড়। আমাকে দেখে সে বলছিল, ‘আমার মেয়েকে না দিলে আমি যামু না।’ নাতনির জন্য এখন আমার মন কাঁদে। ছোটবেলা থেকে আমিই তাকে মানুষ করেছি।’

ফজিলার তৃতীয় সন্তান বজলুর রহমান, যিনি মাকে নিতে পরিবারের সঙ্গে বাগেরহাটে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘মোবাইলে খবর দেখে আমরা এখানে এসেছি। তিন বছরের বেশি সময় পর মাকে ফিরে পেলাম, কিন্তু আমার ছোট বোন আর নেই।’

পরিবারের দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, নিহত ফাতেমার টিকা কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রশাসন ফজিলার পরিচয় নিশ্চিত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, পরিবারের দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি ময়মনসিংহে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। সবকিছু যাচাইয়ের পর ফজিলা খাতুনকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত