গাজীপুরের শ্রীপুরে সদ্য ঘোষিত জাতীয় শ্রমিক লীগ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির এক যুগ্ম সম্পাদকের ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। ত্যাগী নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ ঘটনায়।
জাতীয় শ্রমিক লীগ শ্রীপুর শাখা নতুন কমিটি নিয়ে আগের নেতারা জানান, নতুন কমিটির আগের কমিটি দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। কোনো সম্মেলন না হওয়ায় এখনো নতুন কমিটি ঘোষণা করার কোনো সুযোগ নাই। কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানোও হয়েছে আমাদের কমিটি সম্পূর্ণ বৈধ। তবে, সম্প্রতি জেলা থেকে সাধারণ সম্পাদকের এক স্বাক্ষরে একটি অবৈধ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা যায়, গত দুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সম্প্রতি ঘোষিত শ্রমিক লীগ আহ্বায়ক কমিটির চার নম্বর যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দীন আসর বসিয়ে ইয়াবা সেবন করছেন। বেশ কিছু সময় ধরেই তিনি ইয়াবা সেবন করে যাচ্ছিলেন। পরে এ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার বাড়ি বেড়াইদের চালা এলাকায়।
এ দিকে চলতি ১১ অক্টোবর গাজীপুর জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মফিজুর রহমান লিটন স্বাক্ষরিত ৫ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন।
তবে কেন্দ্রীয় কমিটির একটি চিঠিতে জানা গেছে, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ও ২৫ ফেব্রুয়ারি কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত হয়েছে, দেশের কোথাও সম্মেলন ছাড়া কোনো কমিটি অনুমোদন করা যাবে না। যা কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিতকরণের মাধ্যমে সম্মেলন আয়োজন করতে হবে।
সদ্য ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক আরজু সরকার জানান, এ ভিডিওটি অনেক পুরোনো। একটি কুচক্রী মহল আমাদের আহ্বায়ক কমিটিকে বিতর্কিত করতে ফের ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে।
মাদকাসক্ত জেনেও কেন তাকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, হেলাল ভালো হয়ে গেছেন জেনেই তাকে পদে রাখা হয়েছে। তিনি আমাদের পরীক্ষিত কর্মী বলে এ সুযোগ পেয়েছেন।
সদ্য ঘোষিত কমিটির দ্বন্দ্ব নিয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগ আঞ্চলিক শাখা শ্রীপুরের সভাপতি মো. জোবায়ের হোসেন জানান, এটা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিশেষ সুবিধার জন্য অবৈধ একটি কমিটি জেলার সাধারণ সম্পাদক একক সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন। অথচ এ বছরে শুরুতেই কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত হয়েছে, কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে সম্মেলক করে কমিটি ঘোষণা করতে হবে। এমন একটি চিঠি দেশের সকল জেলা উপজেলার কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, এমন বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আমাদের কমিটিকে বৈধ বলে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এ চিঠির একটি কপি জেলার কমিটির কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মফিজুর রহমান লিটন জানান, নিয়ম মেনেই আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবে।
মাদকাসক্তদের আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির সময় আরও যাচাই বাছাই করে ক্লিন ইমেজদের কমিটিতে পদ দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল উদ্দীন বলেন, এক সময় আমি দুষ্ট ছিলাম। এখন ভালো হয়ে গেছি। মাদক সেবনের এ ভিডিওটি আপনার কিনা জানতে চাইলে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটা বহু পুরানো। কোনো শত্রু পক্ষ এটা ভাইরাল করেছে মানসম্মান নষ্ট করার জন্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীপুর মডেল থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন দেশ রূপানন্তরকে জানান, এমন ঘটনা আমাদের নজরে পড়েনি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।