শুভ বিজয়া দশমীতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিদায়ের সুর ভক্তদের মাঝে। মর্ত্য ছেড়ে দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গা কৈলাসে ফেরার পথে অসুর বধ ও অকল্যাণ দূর করে ভক্তদের জন্য রেখে যাচ্ছেন সুখ, সমৃদ্ধি ও আশীর্বাদ। কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে দেশের বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব হয়েছে।
অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও কল্যাণ এবং সকল মানুষের মধ্যে নিরন্তর শান্তি ও সম্প্রীতির আকাঙ্ক্ষা আর করোনা ভাইরাস মুক্ত করার জন্য মা দুর্গার প্রতি প্রার্থনা ছিল সকল ভক্তের। বিজয়া দশমীর সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে দশ উপাচারে অনুষ্ঠিত হয় দেবী দুর্গার বিহিত পূজা। শাপলা, শালুক আর বলিদানের মধ্য দিয়ে নানা আনুষ্ঠানিকতা পালন করে দেবীর পূজা দেন ভক্তরা।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আসতে থাকে মা দুর্গা। এ সময় হাজার হাজার ভক্ত, পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমায়। একে একে সমুদ্র সৈকত লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। দিনের শেষে দেয়া হয় বিসর্জন।
সনাতন বিশ্বাসে, বোধনে অরুণ আলোর অঞ্জলি নিয়ে আনন্দময়ী মা দুর্গার আগমন ঘটে। টানা পাঁচ দিন মৃণ্ময়ীরূপে মণ্ডপে মণ্ডপে থেকে ফিরে যান কৈলাসে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে। দূর কৈলাস ছেড়ে মা পিতৃগৃহে আসেন এবং বিজয়া দশমীতে বিদায় নেন।
মানব হৃদয়ে পুণ্যের পুষ্পরাশি প্রস্ফুটিত এবং অশুভকে বিনাশ করে আগামী বছর দেবী দুর্গা আবারও আসবেন ধরাধামে, এমন প্রত্যাশা ভক্তদের।
বিকেলে বিজয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে জাতি-ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ।
প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দিন আহমেদ, বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন আহমদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা জাসদের সভাপতি নাঈমুল হক চৌধুরী প্রমুখ।
পেকুয়ায় সংঘটিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া জেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এবারে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ।
তিনি জানান, কক্সবাজার সৈকতের বিজয়া অনুষ্ঠানে ৪ শতাধিক প্রতিমা সাগরে বিসর্জিত হয়েছে। যা দেশের সবচেয়ে বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব।