দক্ষিণ সুদানের ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষ করোনার টিকার কোনো ডোজ পাননি। আর পুরো আফ্রিকায় এই সংখ্যা ৯৩ শতাংশের বেশি। অথচ বিশ্বের অনেক দেশে প্রায় শতভাগের কাছাকাছি মানুষ এসেছে টিকার আওতায়। টিকাদানের এই বিস্তর বৈষমের মধ্যে অনেক দেশ বুস্টার ডোজও দেওয়া শুরু করেছে, অনেক দেশ কিছুদিনের মধ্যেই বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করবে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, টিকাদানের এই বৈষম্যের মধ্যে বুস্টার ডোজ দেওয়া অনৈতিক ও অন্যায্য। উন্নত দেশগুলোর এই পদক্ষেপ টিকার বৈষম্যকে আরও প্রকট করবে।
বিশ্বজুড়ে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৬৬২ কোটির বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৮১ কোটি মানুষ পেয়েছেন পুরো দুই ডোজ টিকা, যা বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৩৬ শতাশং। তবে আফ্রিকা অঞ্চলে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ ন্যূনতম এক ডোজ টিকা পেয়েছেন। অথচ ২০২১ সালের মধ্যে ৪৭ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা ছিল অঞ্চলটিতে।
এ অবস্থায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুসের ভাষ্য, যখন আফ্রিকাজুড়ে টিকার সংকট চলছে তখন কিছু দেশে কভিড-১৯ ভ্যাকসিনের বুস্টার শট বিতরণ করা অনৈতিক।
গত মঙ্গলবার সিএনএনের বেকি অ্যান্ডারসনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, বুস্টারের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ‘অনৈতিক, অন্যায্য ও অন্যায়’ এবং এটি বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায় হিসেবে বুস্টার শুরু করা সত্যিই সবচেয়ে খারাপ কাজ। এটা অন্যায় এবং অন্যায্য; কারণ আমরা একটি পুরো মহাদেশকে উপেক্ষা করে মহামারী বন্ধ করতে পারব না, বিশেষ করে যে মহাদেশের ভ্যাকসিন উৎপাদন ক্ষমতা নেই।
তেদ্রোস বলেন, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, ওশেনিয়া সবাই তাদের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশি একক ভ্যাকসিন ডোজ দিয়েছে, যেখানে আফ্রিকার জনসংখ্যার মাত্র ৭ শতাংশ ভ্যাকসিনের ডোজ পেয়েছে।
তেদ্রোস বলেছেন, এখন টিকা সরবরাহের পরিস্থিতি বিপরীতমুখী হওয়া উচিত। টিকার বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে সরবরাহ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘করোনার ডেল্টা ধরন থেকে নিজের দেশের জনগণকে বাঁচাতে সব সরকারের উদ্বেগের বিষয়টি আমি বুঝি। কিন্তু আমরা ওইসব দেশকে মেনে নিতে পারি না যারা ইতিমধ্যে টিকার বৈশ্বিক সরবরাহের অধিকাংশই ব্যবহার করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরাও করোনা টিকার অতিরিক্ত ডোজ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিন প্রধান কেট ও’ব্রয়েন। তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম তাদের অতিরিক্ত টিকা দেওয়া জরুরি। তবে যেসব দেশে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা পৌঁছায়নি সেসব দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দিতে হবে।
তার ভাষ্য, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে হলে পৃথিবীর সব দেশের জনগণকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ভ্যাকসিনহীন দেশগুলোতে এই রোগ সংক্রমণ যত বৃদ্ধি পেতে থাকবে, ততই নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব হবে এবং তা অচিরেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। তাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ ক্যাম্পেইন বন্ধ করে ওই ভ্যাকসিনগুলো জীবন রক্ষার্থে দরিদ্র দেশগুলোতে পাঠানো প্রয়োজন, যাতে রোগ সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব হয়।