‘স্কুইড গেম’-এ কেন মেতেছে বিশ্ব
নেটফ্লিক্সের ‘স্কুইড গেম’ এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত শো। বিশ্বব্যাপী এমন আলোড়ন খুব কম সিরিজই তুলতে পেরেছে। কিন্তু কেন এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল দক্ষিণ কোরিয়ার এই ড্রামা? এই সিরিজ সম্পর্কে নেটফ্লিক্সের কো-সিইও টেড সাদান্দোস ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছিলেন, ‘এটি সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।’ তখন বিষয়টি অনেকে হালকাভাবে নিলেও এখন আর তার সুযোগ নেই। দিনে দিনে এর জনপ্রিয়তা এতটাই বাড়ছে যে চায়ের দোকান থেকে সামাজিক মাধ্যম, সবখানেই আলোচনায় ‘স্কুইড গেম’! ২০০০ সালের একটি জাপানিজ সিনেমা ‘ব্যাটল রয়্যাল’ থেকে অনুপ্রাণিত এই সিরিজ। টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্প। একটি খেলা খেলতে হয় যা আপাতদৃষ্টিতে শিশুদের খেলার মতো হলেও বাস্তবে তা নয়। স্কুইড গেমে জিতলে বেঁচে থাকা যায়, নাহলে মৃত্যু। হোয়াং দং-হিউক ‘স্কুইড গেম’-এর অপ্রত্যাশিত এই সাফল্যে দারুণ খুশি। ‘ভ্যারাইটি’তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমি একটি গল্প লিখতে চেয়েছি যা আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজের গল্প তুলে ধরবে। এই চরিত্রগুলো বাস্তব জীবনে সবার চেনা।’ ‘স্কুইড গেম’ প্রথমে সিনেমা হিসেবে তৈরি হলেও পরে সিরিজ আকারে নেটফ্লিক্সে এসেছে। এই বিশ্বের নানা দেশে সিরিজটি জনপ্রিয়তা পাওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সাংমায়ুং ইউনিভার্সিটির কালচারাল কনটেন্ট প্রফেসর কিম পিয়ং-গ্যাং। তার মতে, ‘মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা বাস্তব জীবনে বিচ্ছিন্নতা ও বিরক্তিতে ভোগেন নিয়মিত। তারা চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পেরেছেন।’ ‘স্কুইড গেম’-এর সিকুয়েল নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই প্রসঙ্গে ‘ভ্যারাইটি’কে নির্মাতা জানিয়েছেন, ‘স্কুইড গেম টু’ তৈরির পরিকল্পনা এখনো করেননি তিনি। এটা নিয়ে ভাবতেও এখন ক্লান্ত লাগছে তার।
ক্ষমা না চাওয়ায় মামলা!
ক’দিন আগেই ভারতের রাষ্ট্রীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের (আরএসএস) বিরুদ্ধে বলায় মামলার মুখে পড়তে হলো বলিউডের কিংবদন্তি গীতিকার এবং চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারকে। সন্তোষ দুবে নামে মুম্বাইয়ের এক আইনজীবী মুলুন্ড থানায় এই মামলা করেন। ভারতীয় দ-বিধির ৫০০ ধারায় মানহানির মামলা করা হয়েছে জাভেদ আখতারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তালেবানের সঙ্গে আরএসএসের তুলনা করেই বিপাকে পড়েছেন জাভেদ আখতার। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘তালেবান বর্বর, তাদের কাজ নিন্দনীয়। যারা রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ, বজরঙ দলকে সমর্থন করে তারাও তালেবানদের মতো।’ মূলত এরপর থেকে আরএসএসসহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো জাভেদ আখতারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। যদিও আইনজীবী সন্তোষ দুবে গত মাসে আরএসএসের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ মন্তব্য করার জন্য জাভেদ আখতারকে একটি আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন। তবে সেখানে তিনি জাভেদ আখতারকে তার এমন মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে বলা হলেও তিনি তা করেননি। আর সে কারণেই ওই আইনজীবী পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
চলে গেলেন অমিতাভের ‘বেগম’
গত বছর মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউডের ছবি ‘গুলাবো সিতাবো’তে অমিতাভ বচ্চনের ‘বেগম’ ফারুক জাফর আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ এ অভিনয়শিল্পী। ফারুক জাফরের নাতি শাজ আহমেদ তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। সুজিত সরকার পরিচালিত ‘গুলাবো সিতাবো’ই ছিল ফারুক জাফরের শেষ ছবি। এ ছবিতে অভিনয় করেই সেরা সহ-অভিনেত্রী হিসেবে ‘ফিল্মফেয়ার’ পুরস্কার জয় করেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ লক্ষেèৗর নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। ‘গুলাবো সিতাবো’ লেখিকা জুহি চতুর্বেদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, ‘বেগম চলে গেলেন। ফারুকজি, আপনার তুলনা কেউ ছিল না, আর আগামী দিনে কেউ আসবেও না। আপনাকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কারণ আপনার সঙ্গে এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন আল্লাহর আরেক দুনিয়ায় আপনি শান্তিতে বসবাস করুন।’ ‘গুলাবো সিতাবো’ ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা ইন্সটাগ্রামে এ অভিনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। ফারুকজি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি ‘গুলাবো সিতাবো’ করতে রাজি হয়েছিলেন শুধু অমিতাভ বচ্চনের কারণে। কারণ, তিনি অমিতাভের ভক্ত। এই ছবি ছাড়াও ‘স্বদেশ’, ‘সিক্রেট সুপারস্টার’, ‘সুলতান’, ‘পিপলি লাইভ’সহ আরও অনেক হিট ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৮১ সালে রেখা অভিনীত মাস্টারপিচ ‘উমরাওজান’ দিয়ে ফারুক জাফরের অভিনয়জীবন শুরু। এ ছবিতে তিনি রেখার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।